ইসলামের কথা
আরও দেখুন →
সকাল ৮টা। মুহাম্মদ ধড়ফড় করঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল। বিছানা ত্যাগ মাত্র ছুটে গেল আলমিরার দিকে। প্রয়োজনীয় পোশাকটি বের করল আলমিরা থেকে। তারপর কিছুটা জিরিয়ে হলো। এরপর মুখ রাখল আয়নায়। নিজেকে একটু পরিপাটি করে নিয়ে ছুটল দরজা পানে।হায় আল্লাহ! ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি অথচ মুখটুকুও ধোয়া হয়নি!আজ মুহাম্মদের তাড়া আছে বৈ কি। সে আজ বড় ব্যস্ত। হাতে কাজ অনেক। আগেভাগেই সব সারতে হবে। অন্যথায় তাকে সন্ধ্যে অবধি কাজেই ডুবে থাকতে হবে। উপস্থিত হতে পারবে না মীলাদের পুণ্য মাহফিলে।ত্রস্তব্যস্ত হয়ে মুহাম্মদ আবার ঘরে এলো। মুখ-হাত ধুয়ে মুহূর্তেই আবার বেরিয়ে এলো। গাড়ি নিজে ড্রাইভ করেই ছুটলো অফিসের উদ্দেশে। অফিসে পৌঁছে কালবিলম্ব না করে ডুবে গেল কাজের মধ্যে। কিছুক্ষণ বাদে এন্তার কাজ আর ঝামেলার ফাঁক গলেই তার মুঠোফোনে একটি মেসেজ এলো। কাজ বন্ধ করে মুহাম্মদ নজর দিলো মোবাইলে। মোবাইলের মেসেজ বক্স অন করল। বার্তাটি খুলতেই দেখতে পেল : ‘প্রিয় ভাই, তুমি কি আল্লাহকে ভালোবাসো? ভালোবাসো কি তাঁর রাসূল কে?’ মনে মনে সে জবাব দিল, অবশ্যই।তারপর? মুহাম্মদ পড়ে চলে : ‘নিশ্চয় আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানের সবচে মজবুত রশি।’ বাহ্, সুন্দর লিখেছে তো!এবার সে পরবর্তী লাইনগুলোতে চোখ বুলায় : ‘যদি তাঁদের ভালোবাসার এই হয় মর্যাদা, তাহলে এও কি সম্ভব যে, মীলাদ নবীর ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও কি আমরা তা হেলায় কাটিয়ে দেবো?’ মুহাম্মদ মন্তব্য করতে লাগল : এ কী ? জানি না লোকটি কী বলে? আরে! এ দেখি সালেহ। ভাই সালেহ আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিন। মেসেজে কী বলা হয়েছে তা ভুলে মুঠোফোনটি রেখে দিল। ব্যস্ত হয়ে পড়ল অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে। আর হঠাৎ তখনই মনে পড়ল, সে তো ফজর সালাত আদায় করেনি।একটু ভাবল, আপনা থেকেই ভেবে অবাক হলো, কোন জিনিসটি তাকে এ মুহূর্তে সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো? প্রায়ই তো সে ফজর সালাত পড়ে না। হাতের কাজ ফেলে মুহাম্মদ তড়াক করে লাফিয়ে উঠল। ফজর সালাত আদায়ে সে অন্তরে এক অপূর্ব সাড়া ও আত্মিক তাড়না বোধ করল।দিনান্তে মুহাম্মদ সব কাজ শেষ করল। মীলাদে যাবার প্রস্তুতি সেরে গাড়িতে চাপল। গাড়িতে বসে ভাবনার লাগাম ছেড়ে দিল। মনের আরশিতে একে একে ভেসে উঠতে লাগল সারাদিনের তাবৎ ঘটনা। মেসেজটির কথা, ফজরের সালাতের কথা, সকালের তাড়াহুড়োর কথা- এমনকি মুখ না ধুয়ে ভুলে বেরিয়ে আসার কথা। নিজে নিজে একটু হাসল। হৃদয়ে অনুভব করলো শান্তি, তৃপ্তি ও প্রশান্তি। মুখ থেকে বেরিয়ে এলো : আলহামদুলিল্লাহ। সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য।সে নিজে নিজের কাছে ফিরে এলো। নিজের কাছেই কৈফিয়ত তলব করল বছরের পর বছর সালাত কাযা করা বিশেষত ফজর না পড়া সম্পর্কে।আপনাকে সে প্রশ্ন করল, তুমি কি মনে করো, আমি নিয়মিত ফজর সালাত পড়লে এই তৃপ্তি ও প্রশান্তি ধরে রাখতে পারব? স্মরণ হল শায়েখ খালেদের কথা। যিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাগাদা দিয়েছিলেন তাকে আগেভাগেই মীলাদে হাযির হতে।শায়েখ খালেদ ফি বছর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্মরণ করিয়ে দেন মিলাদুন্নবীর গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষের কথা। আল্লাহ তাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।তবে হ্যা, তার মনই তাকে বলল, এই শায়েখ খালেদ তো তোমাকে একবারও ফজর সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেননি। কিংবা তিনি এসে তোমাকে ফজরের সালাতে নিয়ে যাননি। যেমন করেন তিনি ঈদে মিলাদুন্নবীতে! সারা বছর তিনি ব্যস্ত থাকেন। সালাতের প্রতি তোমাকে একটুকু তাগিদ দেন না। কেবল এই সময়টি যখন আসে, তোমাকে স্মরণ করেন তিনি!তওবা! তওবা! এ কেমন হীন চিন্তা? শায়েখ খালেদ তো নেককার ব্যক্তি। অলী আল্লাহ মানুষ। এটা করেন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায়। তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে। ভালোবাসায়…….। হ্যা, ভালোবাসা বৈ কিছুই নয়! মেসেজটিতে আজ যা পড়লাম। কত সুন্দর কথা সেগুলো। মুঠোফোনটা সে আবার বের করল। বন্ধু সালেহ প্রেরিত বার্তাটি বের করে তা পুনরায় পড়তে লাগল : ‘প্রিয় ভাই, তুমি কি আল্লাহকে ভালোবাসো? ভালোবাসো কি তাঁর রাসূল কে? নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা ঈমানের সবচে মজবুত ভিত।’একদম খাঁটি কথা। মুহাম্মদ নিজেকে প্রশ্ন করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন নি : ঈমানের মজবুততম রশি হলো, আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং তাঁর জন্যই ঘৃণা করা।’?মুহাম্মদ পড়ে চলে : ‘যদি তাঁদের ভালোবাসার এই হয় মর্যাদা, তাহলে এও কি সম্ভব যে, মীলাদ নবীর ভালোবাসা প্রকাশকের উপায় হওয়া সত্ত্বেও আমরা তা হেলায় কাটিয়ে দেবো?’সালেহ, সে তো আমার পুরনো বন্ধু। বাল্যকাল থেকেই তাকে চিনি। তাকে সর্বদা সব বিষয়ে উদ্যমী ও অনুসন্ধিৎসু হিসেবে দেখে এসেছি। অন্যের মতের প্রতি তার যথেষ্ট শ্রদ্ধা থাকলেও নিজের বোধটাকে সে কখনো অন্যের করুণার ওপর ছেড়ে দেয় না। না বুঝে সে কোনো বক্তব্য মেনে নেয় না। মনে পড়ে একদিন ক্লাসে এক শিক্ষক বলেছিলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অলীর সঙ্গে মুসাফাহা করতে কবর থেকে তাঁর দস্ত মুবারক বের করে দিয়েছিলেন’। সে সহজে এ কথা মেনে নিতে পারছিল না। ফলে সে শিক্ষকের কাছে এই তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলো। তার যুক্তি, এমন যেহেতু কোনো সম্মানিত বা প্রবীণ সাহাবীর ক্ষেত্রে ঘটেনি তাহলে তা অলী-বুযুর্গদের ক্ষেত্রে ঘটে কি করে? আমরা তার শাণিত যুক্তি ও ব্যক্তিত্বের কারিশমা দেখে অভিভূত হয়েছিলাম।আচ্ছা, সালেহ যদি জ্ঞানী হয়ে থাকে, আমিও তো তবে জ্ঞানহীন নই। আমি না ভেবে তার সব কথাও তো মেনে নিতে পারি না। সালেহ তো কট্টরপন্থী আলেমদের সঙ্গে উঠাবসা করে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না।হায় আল্লাহ, কী আশ্চর্য ! আমি সালেহ ও তার সম মনাদের সম্পর্কে ভাবছি তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না! অথচ তিনিই তো আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায় উপচে পড়া এই বার্তাটি প্রেরণ করেছেন! আমার মনে আছে গত মাসে এ ধরনের একজন বুযুর্গের পেছনে জুমার সালাত আদায় করেছিলাম। তাকে তো নবী প্রেমের সুবাসই ছড়াতে দেখলাম। তিনি তাঁর খুতবায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানার্থে জোরালো বক্তব্য রাখছিলেন। মুসল্লীদের তিনি আহ্বান জানাচ্ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারী সকল দেশের পণ্য বয়কটের মাধ্যমে নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে। তখন শুধু তাঁর মুখেই এই দরকারী আহ্বান শোনা যাচ্ছিল। শায়েখ খালেদের সঙ্গে দেখা হলে তাকেও এ ব্যাপারে সোচ্চার বলে মনে হলো। তদুপরি সালেহ ও তার সঙ্গীদের দেখি তারা সীরাতে রাসূলের ওপরও বেশ গুরুত্ব দেন। একবার সালেহ আমাকে তার এক সতীর্থের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি সীরাতে রাসূলের ওপর সহীহ হাদিস নির্ভর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। বন্ধু সুলাইমানের কথাও উল্লেখ করা যায়। তিনি ছোটদের জন্য সহজ গদ্যে সীরাত গল্প সংকলন প্রকাশ করেছেন।এসবের পরও কীভাবে বলি তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসে না? যে ব্যক্তি সুন্নতের অনুসরণ করে এবং বিদ‘আত বর্জন করে আর রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ যার জীবনের ব্রত, যে যথার্থ মূল্যায়ন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত, সুন্নাহ ও শরীয়তকে, কী করে তার সম্পর্কে বলা যায় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না!হ্যা, আজকের ফজর সালাতের বরকতই যদি হয় এই হেদায়াত ও সৌভাগ্য, তাহলে যে ব্যক্তি দিন-রাত অষ্টপ্রহর রাসূলুল্লাহর আনীত দীনের ছকে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে, কত বরকতই না সে দেখতে পায়। যাহোক, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন তো ভালো কাজই বটে। এ তো কেবল যিকর, নবীর ওপর দরূদ পাঠ ও কল্যাণ কাজে সমবেত হওয়ার নাম। একে বিদ‘আত বলা এক ‘অনুচিত কঠোরতা’ ও ‘অযাচিত গোঁড়ামী’ বৈ কি?‘অনুচিত কঠোরতা’ ও ‘অযাচিত গোঁড়ামী’ ‘অনুচিত কঠোরতা’ ও ‘অযাচিত গোঁড়ামী’ – এভাবে সে বাক্যটি আওড়াতে থাকে।কয়েক সেকেন্ড পর। আচ্ছা প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বর্জন করেছেন, সকল মুসলমানের শ্রেষ্ঠ জামাত যা করেন নি, তা করা অপ্রয়োজনীয় নাকি তারা যা বর্জন করছে তাই অপ্রয়োজনীয়? আহ্ আমি যে চিন্তা মাথায় না এনে পারছি না।মুহাম্মদ মুহূর্তকাল ভাবল, তারপর একটি পাবলিক উদ্যানে ঢুকে পড়ল। এখানে কিছুটা সময় কাটানো যাক। কোমল পানীয় পেটে চালান করে একটু ঠান্ডা হওয়া দরকার।মুহম্মদ একপাশে গিয়ে বসল। ওয়েটারকে একগ্লাস পুদিনা ছিটানো লেবুর জুস দিতে বলল। একটু রিল্যাক্সড হল। মনোরম জায়গাটি তাকে মুগ্ধ করল। উদ্যানের সৌন্দর্য ও পরিপাট্য তাকে সজীব করে তুলল।অকস্মাৎ তার এই সুন্দর সময়ে ছেদ টানল গুটিকয় দুষ্টু বালকের হল্লা। ওরা অশোভন আচরণ করছে। মুহাম্মদ খেয়াল করে দেখল, গালাগাল আর মন্দ বাক্যই ওদের পারস্পরিক অভিবাদনের ভাষা। কিছুক্ষণ বাদেই ওরা বিবাদ শুরু করল। হট্টগোল শোনা গেল। আর দেখতে না দেখতেই ওরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। ওমা সে কি! প্রতিপক্ষের ওপর হামলার জন্য ওদের একজন ধারালো অস্ত্র এবং চাকু বের করল! আল্লাহর দয়া না হলে দু’একজন বোধ হয় খুনই হয়ে যেত। অদূরে পুলিশের একটি গাড়ি এসে থামল। একজন পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে এই উদ্যানের দিকেই এগিয়ে আসছিল হালকা নাস্তা করতে। ছেলেগুলো তাকে দেখেই ছুটে পালাল। মনে মনে সে আল্লাহর শোকর আদায় করল। এই তো, তিনি দয়া না করলে এখানে আজ কেউ একজন খুনই হয়ে যেত।আসলে এই সুন্দর জায়গাটিতে একজন নিরাপত্তারক্ষী থাকা দরকার। নয়তো যে কোনো মুহূর্তে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাবে। তেমন না হলে বরং এটি বন্ধ করে দেওয়াই শ্রেয়। অন্যথায় এটি হবে সেসব অপরাধীর অভয়ারণ্য যাদের কর্মকাণ্ড সমাজে শুধু অশান্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।হ্যা, যাতে কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণের দিকই বেশি, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করাই শ্রেয়। এই পয়েন্টে এসে মুহাম্মদ নিজেই নিজের সঙ্গে তর্ক জড়িয়ে গেল। এভাবে অনেক মীলাদেই তো মন্দ ও অকল্যাণ চর্চা হয় বেশি। আল্লাহর কসম, ওরা মিলাদুন্নবী উদযাপানের নামে মদ ও গঞ্জিকা সেবন করে। অনেক মীলাদেই সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়। নৃত্য-গান ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয়। এতো রাসূলের প্রকৃত ভালোবাসার নমুনা হতে পারে না। তবে আলহামদুলিল্লাহ আমি যে মীলাদে উপস্থিত হই। আমার পরিবার-পরিজন যে মীলাদ অনুষ্ঠান করে থাকে, সেগুলো এসব বিদ‘আত থেকে নিরাপদ। বিদ‘আত! আমি কী বললাম? বিদ‘আত! কী করে উচ্চারণ করলাম এই শব্দ?হ্যা, শপথ আল্লাহর, এতো বিদ‘আত বৈ কিছুই নয়। মুহাম্মদ, তুমি ভাবছো তোমাদের মীলাদ এসব নিষিদ্ধ মন্দাচার থেকে মুক্ত। কিন্তু সেখানে অন্য নিষিদ্ধ বিষয় তো রয়েছে। তুমি সেসব পছন্দ কর এবং সেসবে তুমি অভ্যস্ত বলে তা টের পাও না। আর তোমাদের এই মীলাদ, তাদের যে মীলাদকে বিদ‘আত বললে সেই পর্যায়ে যে একদিন উন্নীত হবে না তার গ্যারান্টি কোথায়?স্বভাবতই তুমি বলবে, না। আমরা ও আমাদের শায়েখরা এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরা দীর্ঘদিন ধরেই মিলাদুন্নবী পালন করে আসছি। আমাদের নিয়মে কোনো ব্যত্যয় হয় নি। আলহামদুলিল্লাহ ওসব বিদ‘আতও আমাদের স্পর্শ করে নি।মুহাম্মদ, তুমি কি মনে করো না আব্দুল্লাহরা যে মিলাদুন্নবী পালন করতো তা এক সময় ভালোই ছিল। একদিন ঠিক তোমাদের মীলাদের মতোই নির্দোষ ছিল। খোঁজ নিয়ে দেখ আজ তারাই মিলাদুন্নবী উৎসব পালনে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। এমনকি আব্দুল্লাহর এক আত্মীয় আমাকে বলেছে, তারা মীলাদের অনুষ্ঠানাদিতে মাদককেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। হ্যা, আমার ঠিক মনে আছে। সন্দেহ নাই ওরা এসব ঠিক করছে না।কিন্তু কেন ওরা ভুল করছে? আমাদেরও কি ভুল করা সম্ভব নয়? এটা কি সম্ভব নয় যে, আমরাও একদিন তাদের মতো করতে লাগব? না, নাহ। ওরা ভুল করছে। আমি এটা গোঁড়ামীবশত বলছি না। বলছি কারণ, তারা আমাদের পূর্বসুরীরা যা করেছেন তা বিকৃত ও পরিবর্তিত করার মেহনত করেছে।আচ্ছা, মীলাদ পুরোটাই কি আমাদের পূর্বসুরীদের পথে পরিবর্তন ও বিকৃতি সাধন নয়? এ কথা হৃদয়ে উদয় হওয়া মাত্র তর্ক মিইয়ে এলো। ভাবনার দিগন্ত রেখা ছোট হয়ে এলো। ঠিক বটে। তবে এটা তো ভালো কাজ।এ চিন্তা মাথায় উদয় হওয়ার পর থেকেই মুহাম্মদ অস্বস্তি বোধ করতে লাগল। আগেভাগেই মীলাদে উপস্থিত হবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলল। কামনা করতে লাগল, যদি সালেহের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তবে তার সঙ্গে পর্যালোচনা করা যেত।কিন্তু সালেহ কোথায়? তার কাছে পৌঁছাই বা সম্ভব কিসে? মুহাম্মদ তার মোবাইলে মেসেজ অপশনের ইনবক্সে গিয়ে পুরনো মেসেজগুলো পড়তে লাগলো। এর মধ্যে সে কিছুদিন আগে পাঠানো সালেহের আরেকটি মেসেজ খুঁজে পেল। সালেহ তাতে লিখেছে : ‘আপনি কিন্তু নিজের জন্য গাড়ি কিনতে গিয়ে তা পছন্দের ভার অন্যের ওপর ছেড়ে দেন না। ভালো ফ্ল্যাট কিনে নিজের সুরুচি ও আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটাতে চান। পরিবারকে চমকে দিতে চান। বড় কিছু কিনতেই তো আপনি অন্যের মতামতকে পাত্তা দেন না। বরং নিজের রুচি ও পছন্দকেই অগ্রাধিকার দেন।’মুহাম্মদ পড়ে চলে : ‘তাহলে আপনি নিজের দীনদারীর ব্যাপারে যে সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য আনতে চান আল্লাহকে খুশি করা জন্য, তা নির্বাচনের ভার কেন ছেড়ে দেন অন্যের ওপর?’নাহ, আল্লাহর কসম, এ যুক্তি আমি মানতে পারি না। আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারে আমি খেয়াল-খুশি মত যা তা করতে পারি না। আমি এমন কোনো কাজে ইবাদত মনে করে আমার জীবনের মূল্যবান সময়ের সামান্যও ব্যয় করতে রাযী নই, যা আখিরাতে আমার কল্যাণ বয়ে আনবে না। যে কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ভূমিকা রাখবে না। অনেক সুস্পষ্ট ও আপাত সুন্দর ইবাদতও কি কখনো বিদ‘আত হতে পারে না? পক্ষান্তরে অনেক তেতো কাজও তো সুন্নত হতে পারে।মেকি যুক্তির পূজারী হতে গিয়ে কি বিজ্ঞ আলেমদের মত ছাড়াই এ বিষয়টির সমাধানে পৌঁছবো? মীলাদের পক্ষে যারা সাফাই গান তাদের বুযুর্গদর্শন চেহারা দেখে গলে যাবো? অন্য যেসব আলেম সত্যের বার্তা নিয়ে আসেন, যাদের কথা শুনে আমার মনের দুয়ার খুলে যায়, যাদের বক্তব্য শুনলে আমার চিত্তে সাড়া পড়ে, আমি তাদের কাছে গিয়েই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইবো। যারা শুধু মৌসুমী ইশকে রাসূলের কথা বলেন তারা নয়; জীবনের প্রতিটি কর্মে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করেন তাদের কথাই আমি গ্রহণ করবো।এই বিন্দুতে এসেই মুহাম্মদের সামনে দৃশ্যপট পরিষ্কার হতে লাগল। সে জীবনের নতুন নকশা আকঁতে লাগল। সহসা তার সামনে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত ভিড় করল। যেন সে পূর্ব থেকেই এসব স্থির করে রেখেছিল।১. এমন কোনো সংশয়াচ্ছন্ন ইবাদতে আমি জড়াব না যে সম্পর্কে আমি জানি না তা আল্লাহ তা‘আলাকে খুশি করবে না অখুশি। দীনের বিধি-বিধান সুস্পষ্ট, দিবালোকের ন্যায় সর্বজন দৃষ্টিগ্রাহ্য। এতে কোনো সন্দেহপূর্ণ বা অস্পষ্ট কাজে জড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমি যদি এর হক ও দায়দায়িত্ব আদায়ে সচেষ্ট হই, তবে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেবার অবকাশই নেই।২. আজ আমি মীলাদে উপস্থিত হবো না। এরপর আর কখনো নয়। এর বদলে আজ আমাকে আল্লাহ আমার নতুন জন্ম দান করেছেন। আজ থেকে আমি নতুন মানুষ। আজ থেকে আমি প্রতি মুহূর্তে নবীর জন্য উৎসব করবো। উৎসব করবো তাঁর সুন্নত বাস্তবায়নের মাধ্যমে। উদযাপন করব তাঁর আনুগত্যের মধ্য দিয়ে। এবং সময় মতো ফজর সালাত ও অন্য সালাত আদায়ের মাধ্যমে। উদযাপন করবো জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে তাঁকে বিচারক মানার মাধ্যমে। আল্লাহর কসম, এখনই আমি এর স্বাদ অনুভব করছি। এ যেন এমন মিষ্টতা যার আস্বাদ ভোগ করছি আমার দেহ ও মনে। সেই জন্ম কত না সুন্দর যা আমি উপভোগ করছি। আমি তো কেবল আমার প্রেমাস্পদেরই অনুকরণ করব। আমি তাঁর সঙ্গে জীবিত থাকব প্রতিটি নীরবতায় ও সরবতায়।৩. আমাদের দায়িত্ব আলেমদের উপদেশ শ্রবণ করা। তাদেরকে সম্মান ও মুহাব্বত করা। তাই বলে কারো কাছে আমাদের জ্ঞান বন্ধক রাখতে পারি না। কিয়ামতের দিন হিসাব তো নিজেকেই দিতে হবে। তাই আমাদের করণীয়, আমরা যে কাজে তাঁদের অনুসরণ করব সেটা সুন্নত না বিদ‘আত তা বুঝতে হবে। অনুধাবন করতে হবে এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন হবে কি-না। কারণ, আলেমরাও কখনো ভুল করেন। কখনো অভ্যাস বা প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। অতএব পৃথিবীর কোনো আলেমকে আমি সর্ব বিষয়ে অনুসরণের ক্ষেত্রে নবীর সমতুল্য বানাতে পারি না।৪. আশা করি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে তাঁর রাসূলের বাণীর মাধ্যমে উপকৃত হবার তাওফীক দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য মতে, জান্নাতের কাছে নিয়ে যায় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে নিয়ে যায় এমন কোনো জিনিস নেই যা তিনি আমাদের সুস্পষ্ট বলে দেন নি। সুতরাং এরপর আমি আর কোন জিনিসটির প্রত্যাশা করতে পারি? দীনের সঠিক বুঝ দানের জন্য মুহাম্মদ আল্লাহ তা‘আলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করল।গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিয়ে রেডিও অন করলো। আর সঙ্গে সঙ্গে শুনতে পেল শায়খ সাউদ আশ-শুরাইম সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত করছেন :‘আর তোমার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকে পরিপূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী। আর যদি তুমি যারা যমীনে আছে তাদের অধিকাংশের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমানই করে। নিশ্চয় তোমার রব অধিক অবগত তার সম্পর্কে, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং তিনি অধিক অবগত হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে।’ {সূরা আল-আন‘আম, আয়াত : ১১৫-১১৭}আমার প্রিয় ভাই, এটি এক ব্যক্তির বাস্তব ঘটনা আল্লাহ তা‘আলা যার অন্তরে নিজের মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতকে প্রধান্য দেবার নূর দান করেছেন। রাসূলুল্লাহকে আদর্শ ও ইমাম হিসেবে গ্রহণ করার তাওফীক দিয়েছেন। তাই তো তিনি সক্ষম হয়েছেন তাঁর পূর্ণ আনুগত্য ও প্রশ্নাতীত অনুসরণে। সফল হয়েছেন দীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে।বস্তুত আল্লাহর প্রিয় ও পছন্দসই হক তথা সত্যের মানদণ্ড কিন্তু ভালো রুচি বোধ কিংবা বংশ পরম্পরার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় না। ব্যাপক সংখ্যক মানুষের কাজের মাধ্যমে চেনা যায় না। এমন জ্ঞানের ফয়সালার মাধ্যমেও জানা যায় না, যা শরীয়তের আলোয় আলোকিত নয়। তেমনি এমন ব্যক্তির অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমেও নয়, যার বক্তব্যের পেছনে আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।তবে যে সত্যিকারার্থে হিদায়াত প্রত্যাশী হবে, তারপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে নব উদ্ভাবন নয়; সম্পূর্ণ আনুগত্য দেখাবে, সে কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছবেই। আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,‘হে আমার বান্দা, তোমরা সবাই বিভ্রান্ত, কেবল আমি যাকে সঠিক পথে পরিচালিত করি। অতএব তোমরা আমার কাছেই সঠিক পথের জন্য প্রার্থনা করো। আমি তোমাদের হিদায়াত দেব।’ [মুসলিম : ৬৭৩৭]হিদায়াতের পথ ছাড়া অন্য পথ সম্পর্কে তিনি বলেন,‘আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ {সূরা আল-আন‘আম, আয়াত : ১৫৩}নিজের ইচ্ছে মত চলা এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের নিন্দা করতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,‘তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।’ {সূরা আন-নাজম, আয়াত : ২৩}মীলাদ সম্পর্কে যখন কেউ খোলা মনে, মানুষের প্রভাবমুক্ত হয়ে ভাববেন, পূর্ণ শরীয়তের প্রমাণাদি সামনে রাখবেন, তিনি নিশ্চিত উপলব্ধি করবেন, মীলাদের উদ্দেশ্য ভালো হতে পারে; কিন্তু মীলাদ কোনো ভালো কাজ হতে পারে না। কারণ, মীলাদ বা মিলাদুন্নবীর আবিষ্কার মানেই দীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন করা। তারপর এতে বিভিন্ন মুসলিম দেশে নানা মন্দ বিষয় ও খারাপ অনুষঙ্গ যোগ করা হয়। মীলাদে সহজ যে বিষয়টি অহরহই হয় তা হলো, এতে অংশগ্রহণকারীরা মীলাদের মধ্যে কিয়াম করেন। এর জন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। কেউ এলে যেভাবে দাঁড়ানো হয় ঠিক সেভাবে দাঁড়ান। সেখানে সুগন্ধি ছিটিয়ে গভীর আবেগ আর পরম তৃপ্তি নিয়ে গীতের সুরে গাওয়া হয় :‘স্বাগতম মোর চোখের আলো, স্বাগতম, স্বাগতম,স্বাগতম ওহে হুসেনের নানা, স্বাগতম, স্বাগতম।’আরও যেমন গাওয়া হয় :‘তুমি যে নূরেরও ছবি, তুমি যে নিখিলের রবি।তুমি না এলে দুনিয়ায়, হত না এ ধরার সবি।’ইয়া নবী সালাই মুআলাইকা,ইয়া হাবীব সালাই মুআলাইকা।’অনেক মীলাদে গল্পে ইঙ্গিতকৃত অনেক নিষিদ্ধ বিষয় দৃষ্টিগোচর হয়। কোনোটাতে সরাসরি কুফরি কাজ পর্যন্ত সংঘটিত হয়। যেমন বলেছেন শায়েখ আব্দুর রহমান আকীল, একসময় যার সম্পর্ক ছিল তথাকথিত এই তাসাউফপন্থীদের সঙ্গে।এ জন্যই এসব বিদ‘আত, যাকে অনেকে নগন্য মনে করেন; সমালোচনার যোগ্যও মনে করেন না, তা-ই কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে অনেকগুলো বিদ‘আতের মোহনায় পরিণত হয়। তখন আর এসব ছাড়া মীলাদই হয় না। মীলাদ তখন রূপ নেয় বিশাল আকাশের, যার মাঝে এসব আবর্তিত হতে থাকে। রূপান্তরিত হয় একটি মৌসুমের যা থেকে এসবের বিস্তার ঘটে। এটাকেই অনেক আলেম বলেন, ‘আল-বিদ‘আতুল মুরাক্কাবা’ বা বিদ‘আত সমষ্টি।মীলাদগুলোতে কী হয় তা জানার জন্য মিশরে অভিবাসী এক বৃটিশ সৈন্য ম্যাকফার্সন প্রণীত ‘মিশরে মীলাদ’ বইটি পড়ে দেখা যেতে পারে। মীলাদ নিয়ে তিনি জোর অনুসন্ধান চালান। অনেক জায়গায় মীলাদ পর্যবেক্ষণ করেন। বইটিতে তিনি যা দেখেছেন তা-ই লিখেছেন। এসব বিবরণের ক্ষেত্রে কোথাও তাকে অতিরঞ্জনের দোষে অভিযুক্ত করা যায় না। তিনি কেবল একজন বিস্মিত দর্শকের ভূমিকায় সরল বিবরণ দিয়ে গেছেন। প্রাচ্যের সমাজগুলোর আচার-অনুষ্ঠানের ওপর বিস্তর গবেষণা রয়েছে তার। মীলাদের পক্ষে-বিপক্ষে কিন্তু তার কিছু বলার নেই। তার ভূমিকা কেবল বিবৃতি ও বিবরণ পর্যন্ত সীমিত। তিনি অনেকগুলো মীলাদ অনুষ্ঠানের বর্ণনা তুলে ধরেছেন, যার সবগুলো জানতে তিনি প্রায় বছরখানেক সময় ব্যয় করেছেন। যুগ যুগ ধরে এমন আচার-অনুষ্ঠান চলে আসছে। সত্যি বলতে কী এসব দেখে শুধু শয়তানই খুশি হয়। এসব আচার দীনের মর্ম মূলে আঘাত হানে। তাওহীদের সুদীপ্ত চেতনা ধ্বংস করে। আল্লাহ আমাদের মীলাদ থেকে হিফাযত করুন।হে জ্ঞান সম্পন্ন লোকেরা, এটি ফিরে আসার এবং নিজেকে শোধরাবার আহ্বান। আপনি অতীতে যা বুঝেছেন, যে সীদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তার বিপরীতে যদি সত্য বা হক দীপ্ত ও উদ্ভাসিত হয়, তবে সে সত্যে ফিরে আসতে আর বিলম্ব করবেন না। মনে রাখবেন, সত্য সনাতন। সত্য চিরন্তন। এবং সত্যই কেবল অনুসরণীয়।ভালোবাসা একটি হৃদয়গত আমল। বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আচার-আচরণ এর নিদর্শন। অমুক দল অন্যদের থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বেশি ভালোবাসে, এটা কোনো দাবীর বিষয় নয়। এমন দাবীও অবান্তর, আমরা যা করি যারা এসব করে না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমিক নয় তারা। কারণ, সাহাবীদের সম্পর্কে যা বলা হবে পরীক্ষা না করে তা-ই সত্য মনে করার দিন গত হয়েছে। তাঁদের সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই বলবে কীভাবে। তাঁরা তো কঠিন ও সহজ- সবই পূর্ণ করে গিয়েছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে দীন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আল্লাহর দীন ও তাঁর হাবীবের ভালোবাসায় তাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন ছিলেন। এতে আর সংস্কারের কিছু নেই। আছে শুধু অনুসরণ আর অনুকরণ করার। প্রয়োজন শুধু একে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা। ব্যক্তিগতভাবে আহত করা এ লেখার অভিপ্রায় নয়। উদ্দেশ্য কেবল প্রচল উপায়ে এবং দরদ মেশানো কথায় মানুষকে সত্য বুঝানো।ইসলামে গোষ্ঠীপ্রীতি বা গোষ্ঠীবিদ্বেষ এবং ‘ভালো চেহারায় মন্দ ছড়ানোর চেয়ে ক্ষতিকর কিছু নেই’। এর চেয়ে আর কোনো খেলায় শয়তান এত বেশি খুশি হয় না। এ ছাড়া আর কোনো উপায়ে মানুষকে নিয়ে শয়তান এতোটা সফল খেলা খেলে না।প্রকৃতপক্ষে যে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব করে, তেতো হলেও সে সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করে। সবচে’ অপ্রিয় ব্যক্তি বললেও সত্যকে সে মেনে নেয়। তেমনি সে মিথ্যা পরিত্যাগ করে, যদিও তাতে তার স্বার্থ বা মনের টান থাকে। একইভাবে সে মিথ্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপই করে না, যদিও তার বাপ-ভাই বা কাছের কেউ এর পক্ষ নেয়।সাবধান, তারা হয়তো নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন না। আর তারা আপনার সমালোচনা করবে এ শঙ্কায় আপনি তাদের প্রতি দুর্বল হবেন না। এটা তাদের মতো আপনাকেও ভুল পথে নিয়ে যাবে। এরা আপনাকে বাতিলের পক্ষে নিয়ে যাবে। সত্য উদ্ভাসিত হবার পর আর বাতিলের পক্ষ নেবার সুযোগ নেই। অন্যথায় আপনিও তাদের একজন হয়ে যাবেন। আত্মম্ভরী তার গরিমার অন্ধতারের ডুবে থাকে। একেরপর এক সে তার অপরাধ শুধু বাড়িয়েই চলে। বাপ-দাদা থেকে চলে আসছে বলেই তা করতে হবে এমন ভাবার অবকাশ নেই। দেখুন আল্লাহ তা‘আলা কী বলেন,‘আমি কি তাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে? বরং তারা বলে, ‘আমরা নিশ্চয় আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি, আর নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে হিদায়াতপ্রাপ্ত হব’। আর এভাবেই তোমাদের পূর্বে যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের উপর পেয়েছি এবং নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব’। তখন সে (সতর্ককারী) বলেছে, ‘তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের যে মতাদর্শে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট পথে নিয়ে আসি তবুও কি’? (তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?) তারা বলেছে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তার অস্বীকারকারী।’ {সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত : ২১-২৪}আমাদের কাছে অনুসরণীয় কারা তা যেমন আগেই বলে দেওয়া হয়েছে। তেমনি দীনের নামে যে নানা বদদীন চালু হবে তারও ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়েছে চৌদ্দশ বছর আগে। ইরবায বিন সারিয়া রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‘আমি তোমাদেরকে আল্লাহর ভয় এবং আনুগত্যের অসিয়ত করছি। যদিও কোনো দাস তোমাদের নেতৃত্ব দেয়। আমার পরবর্তীকালে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক বিভক্তি দেখতে পাবে। তোমরা তখন আমার ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদার আদর্শ অনুসরণ করবে। একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে। আর তোমরা (দীনের ব্যাপারে) নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সাবধান থাকবে। কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই (বিদ‘আত) পথভ্রষ্টতা।’ [মুসনাদ আহমদ : ১৭১৮৪; আবূ দাউদ : ৪৬০৯; তিরমিযী : ২৬৭৬; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৭১১০।]হুযাইফাতুল ইয়ামান রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘যে কোনো ইবাদত যেটা রাসূলুল্লাহর সাহাবীরা করেন নি, তোমরা তা করবে না। কেননা অগ্রবর্তীরা (সাহাবীরা) পূর্ববর্তীদের জন্য কোনো কথাই বাদ রাখেন নি।’ [শাতিবী, ই‘তেসাম : ১/৬৮৩]ইবন মাজশূন বলেন, ‘আমি মালেককে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি পুন্য মনে করে ইসলামে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে, সে যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেসালাতের দায়িত্ব অপূর্ণ রেখেছেন বলে দাবী করল। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম’।[2] সুতরাং সেদিন যা দীনের অংশ ছিল না আজ তা দীনের অংশ হতে পারে না।’ [শাতিবী, ই‘তেসাম : ১/২৩]আয় আল্লাহ, জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা এবং আসমান-যমীনের স্রষ্টা, তোমার বান্দারা যা নিয়ে বিরোধ করত সে বিষয়ে তুমিই ফয়সালা দেবে। বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তুমি আমাদের সঠিক পথ দেখাও। যাকে তুমি চাও তাকেই কেবল তুমি সরল পথ দেখাও।– আলী হাসান তৈয়ব—————-1 . মূল হাদীসটি হলো : বারা’ বিন আযেব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : أَتَدْرُونَ أَيُّ عُرَى الإِيمَانِ أَوْثَقُ ؟ قُلْنَا : الصَّلاَةُ قَالَ : الصَّلاَةُ حَسَنَةٌ وَلَيْسَ بِذَاكَ قُلْنَا : الصِّيَامُ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى ذَكَرْنَا الْجِهَادَ ، فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : « أَوْثَقُ عُرَى الإِيمَانِ الْحَبُّ فِي اللهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ».নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমরা উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি জানো ঈমানের কোন রশিটি বেশি মজবুত? আমরা বললাম, সালাত। তিনি বললেন, সালাত তো একটি নেকীর কাজ, এটা তা নয়। আমরা বললাম, সিয়াম। এবারো তিনি আগের মতই বললেন। এভাবে আমরা জিহাদ পর্যন্ত (ইসলামের সব বড় ইবাদতগুলোর) কথা উল্লেখ করলাম। তিনি একই উত্তর দিলেন। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ঈমানের মজবুততম রশি হলো, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করা।’ [ইবন আবী শাইবা, মুসান্নাফ : ৩১০৬০; মুসনাদ তিয়ালিসী : ১/১০১; সহী জামে : ৯৩৫২]2 . সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ০৩।

ফজরের আজানের “আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাউম”শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল আবদুল ওয়াহাবের। ঘুম থেকে উঠেই স্ত্রীকে সালাতের জন্য উঠতে বলে বিছানা ত্যাগ করল সে। জামাটা গায়ে চড়িয়েই চলে গেল ফজরের সালাতে। ঘর থেকে বেরিয়ে বেড়ার দরজাটা আবার লাগিয়ে দিল। গতকাল ইমাম সাহেব বলেছিলেন, ফজর আর এশার সালাত জামাতের সাথে পড়লে সারা রাত ইবাদাত করার সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এই বিশাল নেকি হাত ছাড়া করতে চায় না সে।আবদুল ওয়াহাব পেশায় একজন রিকশাচালক। কিন্তু, তাতে কি, তার মত বড় মনের মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তার বাকি সাথীদের দিকে তাকিয়ে অবাক হয় সে। মানুষগুলোর অভিযোগের শেষ নেই। আজ এই সমস্যা তো কাল ওই সমস্যা। সমস্যার কথা তাদের মুখে লেগেই থাকে। কিন্তু সেদিক থেকে সে নিজেকে হাজার গুণ সুখী মনে করে। তার কথা হল, দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষের জীবনেও সমস্যা আসে। সমস্যা আসবেই। কিন্তু তা নিয়ে এত ব্যস্ত হবার কি আছে? আল্লাহ যে অবস্থায় তাকে রেখেছেন, তার চেয়ে খারাপ অবস্থায়ও তো মানুষ আছে। তার কথা হল, সুখ হল মনের ব্যাপার। সব মানুষেরই কম-বেশি সমস্যা থাকে। কিন্তু যে তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে ও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে, সেই আসলে প্রকৃত সুখ অনুভব করতে পারে।ফজরের পর মসজিদে বসেই কুরআন তিলাওয়াত করে আবদুল ওয়াহাব। সূর্য উঠলে বাড়ী ফিরে আসে আবার। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। বাড়ী ফিরেই বউকে খাবার দিতে বলল। খাওয়া শেষে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। সারাদিন অনেক বিচিত্র রকমের মানুষ তার রিকশায় উঠে।এক প্যাসেঞ্জারকে নামিয়ে দিতে দাড়িয়েছে এক বাসার সামনে। সেখানেই রিকশার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল এক যুবক। ভাড়া আদায় পর্ব চুকাতেই, যুবকটি বলল, মামা যাবেন?-উঠেন।যুবকটি রিকশায় চড়ে বসল। আবদুল ওয়াহাব রিকশা সামনে বাড়াল। যুবকটির দাড়ি দেখে আবদুল ওয়াহাবের খুব ভালো লাগল। আবদুল ওয়াহাবের নিজেরও দাড়ি আছে। তাই দাড়িওয়ালা লোক দেখলেই বুকের মধ্যে কেমন যেন এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে তার। কিছু দূর যেতেই যুবকটি প্রশ্ন করল, মামা, নাম কি আপনার?-আবদুল ওয়াহাব।-বাসা কোথায়?-এই তো, পাশের বস্তিতেই থাকি।-অ! গাড়ি কি নিজের না ভাড়া?-নিজের গাড়ি, মামা।-আলহামদুলিল্লাহ্, তাহলে তো ভালোই।-জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ অনেক ভালা রাখছে।-তা, মামা, সালাত পড়েন তো?-হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ্ সবগুলাই পড়ি।-আচ্ছা মামা, একটা প্রশ্ন করি?-করেন…-আপনার ডান হাতে ওটা কি? তাবিজ নাকি?-জ্বি মামা। ৭-৮ বছর আগে একবার জ্বিনে ধরছিল। হের পর থেইক্যা এক হুজুর এটা পরতে কইছে।-তাই?-হ। অনেক বড় হুজুর। আমাগো দেশে উনার অনেক নাম। সবাই অনেক সম্মান করে। অনেক দূর থাইকা লোকজন আসে উনার কাছে।-আপনি ৭-৮ বছর ধরে এটা পরেন?-হ। বুঝছেন মামা, হুজুর বিশাল আল্লাহর অলি। সবসময় সুন্নতের উপর থাকে।যুবকটি বিশাল একটা নিশ্বাস ছাড়ল। যেন হতাশা আর ক্ষোভ বেরিয়ে আসছে ভেতর থেকে। নিরবতা ভেঙ্গে আবার কথা শুরু করল…-আচ্ছা, মামা, আপনাকে একটা প্রশ্ন করি?-বলেন মামা।-মামা, আল্লাহর নবী ﷺ কি তাবিজ ব্যবহার করতেন?আবদুল ওয়াহাব পেছনে ফিরে একবার যুবকের দিকে তাকালো। চোখমুখ ভরা বিস্ময় তার। তারপর সামনের দিকে ফিরে বলতে শুরু করল,-আমি কি আর আলেম, মামা? হুজুররা যেহেতু দেয়, তাহলে মনে হয় পরত।-হুম! মামা, আল্লাহর রসুল যাই করতেন, হুজুররা কি তাই করে?-তাই তো হবার কথা, মামা।-আচ্ছা, মামা, কোন সাহাবীরা কি তাবিজ ঝুলাতো?-(কিছুটা বিরক্ত মনে হল আবদুল ওয়াহাবকে) এত কথা আমারে না জিগাইয়া হুজুরগো জিগান। আমি কি আলেম নাকি?-মামা, রাগ করলেন নাকি?-না মামা, রাগ করার কি আছে? আমি তো আর আলেম না, মামা। আমারে এগুলা জিগাইয়া কি হইব?-মামা, আপনি কি জানেন, আল্লাহর নবী ﷺ এর আচরণ তাবিজের ব্যাপারে কেমন ছিল?-বলেন মামা, আমি কিছুই জানি না।-আল্লাহর নবী এগুলোকে শিরক বলেছেন।-এইডা কি কইলেন মামা? সত্যি?!-রসুলুল্লাহ সঃ বলেন, ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﺗَﻤِﻴﻤَﺔً ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺷْﺮَﻙَ -“যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শির্ক করল”।-কই পাইলেন এটা?-হাদীসে আছে। মুসনাদে আহমাদ ৪/১৫৬!-কন কি মামা???-আরও শুনবেন?-বলেন।– ﻖﻠﻋ ﻦﻣ ﺎﺌﻴﺷ ﻞﻛﻭ ﻪﻴﻟﺇ -যে ব্যক্তি কোন জিনিষ লটকাবে, তাকে ঐ জিনিষের দিকেই সোপর্দ করে দেয়া হবে।— আর এটা আছে সহীহুত্ তিরমিযী হাদিস নং- ২০৭২তে-তাহলে, এত বড় বড় হুজুররা যে দেয়? তারা কি এসব জানেনা?-মামা, আল্লাহই ভালো জানেন, তারা কি এই কথাগুলো জেনে এমন কাজ করছে নাকি না জেনেই করছে।-কিন্তু, আপনি শার্ট-পেন্ট পরা যুবক বয়সী পোলাপান, আর কই বড় হুজুর। আমি আপনের কথা কেন মানুম?-আমি তো মামা, আমার কথা বলছি না। আমি রসুল ﷺ এর কথা আপনাকে দেখিয়ে বলছি।-হুম! তাও ঠিক বলছেন মামা। কিন্তু আমরা আমরাই যদি এমনে এমনে করে ইসলাম বুঝতে শুরু করি, তা হইলে তো ঝামেলা বাইধা যাইব। সবাই দুই কলম পইড়া নিজেরটা নিয়ে লাফালাফি শুরু করব। তখন তো আরও বিপদ।-এটা মামা খুব দামি কথা বলছেন। আমরা সবাই আলেম হতে পারব না। কিন্তু সবার একটা নির্দিষ্ট পরিমান জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্তত শিরক-তাওহীদ তো বুঝতে হবেই।-তা ঠিক আছে। কিন্তু, তাই বলে এত বড় বড় হুজুর কিনা এই হাদিসই জানবে না, তা কেমনে হয়। তার কাছে যে প্রতিদিন এত মানুষ আসে, তাহলে কি তারাও জানে না?-হয়ত জানে না।-কিন্তু মামা, এমনও কি হওয়া সম্ভব? একত্রে এতগুলান মানুষ শিরক কইরা যাইব আর কেউ একবার খুইজাও দেখব না কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল?-মামা, আপনি দেখেছিলেন?-না।-হয়ত আপনার মত বাকিরাও।-কিন্তু তাই বলে এতজন?-সুরা ইউসুফে ১০৬ নং আয়াতে আল্লাহ যা বলেছেন শুনলে তো গায়ের লোম দাঁড়ায় যাবে মামা।-কি বলছেন আল্লাহ?-আল্লাহ বলেছেন, “তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (সূরা ইউসুফঃ ১০৬)-হায় হায়, কন কি মামা।-সত্যিই বলছি মামা।-তাহলে এহন কি করমু?-এটা ফেলে দিতে হবে মামা।-না ফালাইলে হয়না মামা?-একবার চিন্তা করুন তো মামা, যদি আল্লাহ এই অবস্থাতেই আপনাকে মৃত্যু দান করেন, এবং আপনি এই তাবিজ পরা অবস্থায় আছেন। আপনি শিরকের উপর মারা যাবেন কিনা?কথাটা শোনার সাথে সাথেই আবদুল ওয়াহাবের মুখের রঙই পরিবর্তন হয়ে গেল।-ঠিকই তো কইছেন মামা, এমন কইরা তো চিন্তা করি নাই। হের পরও কিছু “কিন্তু” আছে মামা।-বলেন শুনি, কি কিন্তু।-আপনার জানা কোন আলেম কি এই তাবিজকে শিরক বলছেন? আমার সাথে কি তার কথা বলাইয়া দিতে পারবেন? আমি তাহলে কোন আলেমের কাছ থেকে শুনলাম এবার তার কাছ থেকে দলিলও নিয়ে জানলাম?-হ্যাঁ, সম্ভব। আমি এখন যেখানে যাচ্ছি তা একটা ইসলামিক বইয়ের দোকান। দোকানটার মালিক একজন আলেম। আমরা তার কাছে জিজ্ঞেস করতে পারি।-ঠিক আছে তা হইলে।অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পৌঁছে গেল গন্তব্যে। যুবকটি এসেছিল কিছু ইসলামিক বই কেনার জন্য। সে এখানে প্রায়ই আসে। সেই সুবাদে আলেমের সাথে তার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তার সাথে দেখা যেন হয়, সেই জন্যই সে সেই সময়গুলোতে আসে যখন তিনি দোকানে থাকবেন।দোকানে প্রবেশ করার সাথে সাথেই যুবকটিকে দেখে মুচকি হেসে প্রথমেই সালাম দিলেন আলেম। আবদুল ওয়াহাব ও রিকশায় তালা লাগিয়ে ভেতরে এসে গেল। যুবকটি আলেমকে সব খুলে বলতেই আলেম একের পর এক দলিলসহ বুঝিয়ে দিলেন আবদুল ওয়াহাবকে কেন তাবিজ নিষিদ্ধ। আবদুল ওয়াহাব আলেমের কোথায় সন্তুষ্ট হল ও তাবিজটি খুলে ফেলতে সিদ্ধান্ত নিল। তাবিজটি খুলে ফেলে আবদুল ওয়াহাব আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করল। হাত তুলে আল্লাহর কাছে নিজের জন্য, যুবক ও আলেমের জন্য দুয়া করল। তাকে শিরক থেকে ফেরানোর জন্য তাদের শুকরিয়া জানালো। এরপর আবার রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল রাজপথে।আবদুল ওয়াহাবের অন্তর জুড়ে একটা কথাই বার বার তাকে নাড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে, সুরা ইউসুফের সেই আয়াত, “তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।” কিন্তু শিরক করলে কি পেছনের সওয়াব বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা না? তাহলে শিরক করছে এমন ব্যক্তির কি আদৌ কোন নেকী বাকি থাকছে? শিরক আর তাওহীদ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারনেই বুঝি অধিকাংশ মানুষের শ্রম পণ্ডশ্রমে পরিণত হয়ে যাচ্ছে?রিকশার চাকা ঘুরতে থাকে। কৃতজ্ঞতায় আব্দুল ওয়াহাবের চোখের কোণে জমা পানি দেখে না কেউ।

সুইডেনে হিজাব পরে হিজাববিরোধী আইনেরপ্রতিবাদ করেছেন সে দেশের ছয়জন অমুসলিম শিক্ষিকা। দক্ষিণ সুইডেনের স্কুরুপ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ একটি স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করার পর তাঁরা এই প্রতিক্রিয়া দেখান। তাঁরা বলেন, ‘মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রতি সমবেদনা জানাতেই তাঁরা হিজাব ব্যবহার করেছেন।’ ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘সুইডেন ডেমোক্রেটের’ প্রস্তাব অনুযায়ী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।হিজাববিরোধী আইনের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিগুলো। মুসলিম সংগঠন ‘মালমোস ইয়ং মুসলিম’ স্কুরুপ টাউন হলের বাইরে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। যাতে কয়েক শ প্রতিবাদকারী অংশ নেয়। সংগঠনের প্রধান তাসনিম রউফ নিষেধাজ্ঞাকে বর্ণবাদী আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এর মাধ্যমে মুসলিম নারীদের পোশাকের নির্বাচন ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।’প্রস্টামোসেসকোলনের প্রধান শিক্ষক মাতিয়াস লিডহোম বলেন, ‘তিনি পৌরসভার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করছেন। আমি বা আমার সহকর্মীরা কেউ এটি প্রয়োগ করব না। আর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব পৌরসভার।’সুইডিশ জাতীয় শিক্ষা সংস্থার আইনজীবী আন্ড্রেয়াস লিন্ডহাম ‘হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ ধর্মের স্বাধীনতাবিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশনের পরিপন্থী বলে মত দিয়েছেন। আর সুইডেন ডেমোক্রেটের নেতা লার্স নাইস্ট্রাম বলেছেন, ‘ছেলে-মেয়েরা মুখ ও চুল গোপন করার জন্য কোন পোশাক পরবে তা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়।’পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, বিগত কয়েক দশকে সুইডেনে মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৫০ সালে দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০০। যা বর্তমানে আট লাখে উন্নীত হয়েছে। সুইডেনের জনসংখ্যার ৮.১ শতাংশ মুসলিম।সূত্র : স্পুটনিক নিউজ ডটকম
প্রাত্যহিক আয়োজন
আরও দেখুন →
আজ শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, দিনের শুরুতেই জেনে নিন আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস সহ কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া। প্রবাসীর দিগন্ত সংবাদের দৈনিক আপডেট, 'আজকের আবহাওয়ার খবর'-এ আপনি ঢাকা ও সারা দেশের বর্তমান আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সহ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ আবহাওয়ার বুলেটিন সম্পর্কে জানতে পারবেন।আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাসআজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।তাপমাত্রা: সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।বৃষ্টিপাত: অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।আবহাওয়ার খবরগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান, সব্বোর্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়া, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সিনপটিক অবস্থা: বিষবীয় ভারত মহাসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি গুরত্বহীন হয়ে পড়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।সামুদ্রিক সতর্কবার্তা: কোন সতর্কবার্তা নেই এবং কোনো সংকেত দেখানো হয়নি।নদীবন্দর সমূহের জন্য সতর্কবার্তা: দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য কোন সতর্কবার্তা নেই এবং কোনো সংকেত দেখানো হয়নি।গত ২৪ ঘন্টার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা:সব্বোর্চ তাপমাত্রা: রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান - ৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সর্বনিন্ম তাপমাত্রা: তেঁতুলিয়া - ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আজকের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত (ঢাকা):আজকের সূর্যোদয় ভোর ৬:২৭ মিনিটে।আজকের সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫:৫৮ মিনিটে।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র, ই-২৪, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ: সুপার এইটপাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডসন্ধ্যা ৭-৩০ মি., টি স্পোর্টস ও নাগরিকইংলিশ প্রিমিয়ার লিগচেলসি–বার্নলিরাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১অ্যাস্টন ভিলা-লিডসরাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২ওয়েস্ট হাম–বোর্নমাউথরাত ১১–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ম্যান সিটি–নিউক্যাসলরাত ২টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১লা লিগাসোসিয়েদাদ–ওভিয়েদোসন্ধ্যা ৭টা, বিগিন অ্যাপবেতিস–ভায়েকানোরাত ৯–১৫ মি., বিগিন অ্যাপওসাসুনা–রিয়াল মাদ্রিদরাত ১১–৩০ মি., বিগিন অ্যাপআতলেতিকো–এসপানিওলরাত ২টা, বিগিন অ্যাপ

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।পূর্বাভাসে বলা হয়, সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৮ শতাংশ।আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বিজ্ঞাপনআগামীকাল (শনিবার) সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ২৮ মিনিটে। এছাড়া গত ৬ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।
খেলাধুলার খবর
আরও দেখুন →
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যখন মাঠে ফ্রি-কিক নেন, তখন আমাদের চোখ থাকে সেই শটে, বলের বাঁক আর গোলপোস্টে। কিন্তু পর্দার আড়ালে একদল মানুষ ততক্ষণে মেপে ফেলছেন সেই শটের গতিপথ, বাতাসের বাধা আর রোনালদোর শরীরের প্রতিটি পেশির কম্পন।কিংবা ট্যুর ডি ফ্রান্সে একজন সাইক্লিস্ট যখন রেসে নামেন, আমরা কী দেখি? তিনি কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে আছেন, তাই তো? কিন্তু ট্র্যাকের বাইরে একদল মানুষের চোখ থাকে অন্য কোথাও। সেই সাইক্লিস্ট কতটা শক্তি খরচ করছেন, সেকেন্ডে কতবার ঘুরছে তাঁর সাইকেলের চাকা?আধুনিক খেলাধুলা এখন যেন সেন্সর, ক্যামেরা আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) এক গোলকধাঁধা। কিছুই আর শুধু অনুমানের বিষয় নয়। সবই ধরা পড়ছে যন্ত্রের চোখে।২০১১ সালের সেই বিখ্যাত সিনেমা ‘মানিবল’-এর কথা মনে আছে? ব্র্যাড পিট দেখিয়েছিলেন, কীভাবে স্রেফ পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটা সাদামাটা বেসবল দলকেও বদলে দেওয়া যায়। ২০২৬ সালে এসে সেই ডেটা বা পরিসংখ্যানের জগৎ এখন কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে গেছে। খেলাটা এখন আর শুধু আবেগ বা শারীরিক দক্ষতার বিষয় নয়, বরং সংখ্যা আর অ্যালগরিদমের এক জটিল সমীকরণ। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই অন্য অনেক কিছুর মতো দখল করে নিচ্ছে খেলার দুনিয়াও।সিলিকন ভ্যালি যখন ড্রেসিংরুমেস্পোর্টস ডেটা অ্যানালাইসিসের বাজার এখন যেন টগবগ করে ফুটছে। আগে কোচেরা খেলোয়াড়দের চোখের দেখায় বিচার করতেন। এখন গায়ে লাগানো সেন্সর বলে দিচ্ছে একজন খেলোয়াড় কতটা ক্লান্ত কিংবা তার চোট পাওয়ার ঝুঁকি কতটুকু। ফ্রান্সের ‘সিস্পোর্টস’-এর পরিচালক ফ্রাঙ্ক ইমবাখ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘কোনো ক্লাব বা ফেডারেশনের কাছে যখন খেলোয়াড়দের সব তথ্য থাকে, আমরা তাদের নিখুঁত পরামর্শ দিতে পারি। আমরা তখন বলে দিতে পারি কীভাবে তাদের পারফরম্যান্স আরও বাড়ানো যাবে কিংবা চোট এড়ানো যাবে।’গ্রাফিকসগ্রাফিকসএআই দিয়ে বানানোএখন অনেক খেলোয়াড়ের শরীরে বসানো হচ্ছে পরিধানযোগ্য সেন্সর। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি থেকে শুরু করে হৃৎস্পন্দনের নিখুঁত হিসাব চলে আসছে ল্যাপটপের স্ক্রিনে। ফুটবলের কথাই ধরুন—ব্যাপারটা এখন আর বলের পেছনে ছোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গ্যালারিতে থাকা ক্যামেরা এখন প্রতি সেকেন্ডে ৫০টি ছবি তুলছে। খেলোয়াড়ের পায়ে বল থাকুক বা না থাকুক, তার প্রতিটি নড়াচড়া ট্র্যাক করা হচ্ছে। এমনকি একজন খেলোয়াড় কতটা জোরে শ্বাস নিচ্ছেন, সেটাও বাদ যাচ্ছে না। এ যেন এক ডিজিটাল ময়নাতদন্ত!নেইমারকে সারিয়ে তুলতে নাসার প্রযুক্তিব্রিটিশ স্টার্টআপ ‘স্পোর্টস ডায়নামিকস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরনড সান্টিন একে বলছেন এক ‘হোলিস্টিক’ বা সামগ্রিক পদ্ধতি। এখানে নিজের দলের শক্তি যেমন জানা যায়, তেমনি প্রতিপক্ষের দুর্বলতাও বের করা যায় নিমেষেই।টাকার পাহাড় ও বাজির দুনিয়াবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ডেটা বা তথ্যের ব্যবসার ভবিষ্যৎ আকাশচুম্বী। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইওয়াই’-এর অন্যতম শীর্ষ কর্তা লোডোভিকো মাঞ্জিয়াভাক্কি পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামী দশকে ইউরোপের স্পোর্টস অ্যানালিটিকস বাজার কয়েক বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে। আরেকটি গবেষণা বলছে, ২০৩২ সালের মধ্যে এই বাজার হবে প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা!আগে কোচেরা খেলোয়াড়দের চোখের দেখায় বিচার করতেন। এখন গায়ে লাগানো সেন্সর বলে দিচ্ছে একজন খেলোয়াড় কতটা ক্লান্ত কিংবা তার চোট পাওয়ার ঝুঁকি কতটুকু।আগে কোচেরা খেলোয়াড়দের চোখের দেখায় বিচার করতেন। এখন গায়ে লাগানো সেন্সর বলে দিচ্ছে একজন খেলোয়াড় কতটা ক্লান্ত কিংবা তার চোট পাওয়ার ঝুঁকি কতটুকু।গ্রাফিকস: এআই দিয়ে তৈরিএই তথ্যের খেলা শুধু মাঠের কৌশলেই সীমাবদ্ধ নেই। টিভি সম্প্রচার থেকে শুরু করে অনলাইন বেটিং বা ফ্যান্টাসি লিগ—সবখানেই তথ্যের জয়জয়কার। জার্মানি ভিত্তিক ‘ডেটা স্পোর্টস গ্রুপ’ যেমন রাগবি বা ক্রিকেটের লাইভ ডেটা সরবরাহ করে গণমাধ্যম ও গেমিং কোম্পানিগুলোকে। ‘ডেটা স্পোর্টস গ্রুপ’-এর রাজেশ ডি’সুজা যেমন বলছিলেন, বুকি বা জুয়াড়িদের কাছে এই ডেটা হলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল হাতিয়ার। পরিসংখ্যান দেখে তারা ঠিক করেন, কার ওপর বাজি ধরা নিরাপদ। এমনকি অফ-সিজনে যখন মাঠে কোনো খেলা থাকে না, তখনো ফ্যান্টাসি লিগের ভক্তদের মাতিয়ে রাখে এই পরিসংখ্যানের লড়াই।তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তাএত সব কথার ভিড়ে একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায়—খেলোয়াড়দের এই ব্যক্তিগত তথ্যের মালিক আসলে কে? ইউরোপে অবশ্য ‘জিডিপিআর’ (তথ্য সুরক্ষা) আইন আছে। তবে সান্টিন বলছেন অন্য এক বাস্তবতার কথা। পেশাদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সময় খেলোয়াড়রা কার্যত তাদের ডেটা ব্যবহারের অনুমতি ক্লাব বা লিগকে দিয়েই দেন। খেলার দুনিয়ায় খেলার এই তথ্যের বাজার যে কতটা জমজমাট, তার প্রমাণ মিলেছে এই মাসেই। আমেরিকান টেক জায়ান্ট ‘জিনিয়াস স্পোর্টস’ ১২০ কোটি ডলারে কিনে নিয়েছে বেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘লিজেন্ড’কে।প্রযুক্তি ও জলবায়ুবান্ধব ক্রিকেটের উদ্যোগ এমসিসিরদিনশেষে মাঠে ফুটবলারের সেই শৈল্পিক ড্রিবলিং বা পেস বোলারের গতির ঝড় হয়তো আমাদের চোখে সৌন্দর্য, কিন্তু স্পোর্টস অ্যানালিটিকসের দুনিয়ায় তা কোটি ডলারের একেকটি পরিসংখ্যান মাত্র! মাঠের লড়াইটা হয়তো এখনো খেলোয়াড়ের ঘাম আর দক্ষতার, কিন্তু পর্দার আড়ালের জয়-পরাজয় এখন নির্ধারিত হচ্ছে বাইনারি কোডে!

২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে এখনই একটি বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে এই বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে আছে মরক্কোও। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কুকুর হত্যা করেছে মরক্কো। দেশটির সরকার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ ও সংরক্ষণ কোয়ালিশন (আইএডব্লিউপিসি)) জানিয়েছে, যদি মরক্কোর এই কার্যক্রম চালু থাকে, তবে ৩০ লাখের মতো কুকুর বিপদে পড়তে পারে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন বলছে, হত্যার যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে স্ট্রাইকাইন বিষ প্রয়োগ, গুলি চালানো এবং এমনকি কিছু কুকুরকে জীবন্ত জ্বালিয়েও দেওয়া হয়েছে। সবই করা হয়েছে শহরের রাস্তা ‘পরিষ্কার’ করার উদ্দেশ্যে, যাতে পর্যটক ও প্রতিনিধিদল আসার আগে শহর প্রস্তুত থাকে।তবে মরক্কোর রাজধানী রাবাতের শহর কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। লন্ডনে মরক্কো দূতাবাসের মুখপাত্র দাবি করেন, ভবঘুরে কুকুর নিধনের কোনো কার্যক্রম নেই এবং মানবিক ও টেকসই প্রাণী ব্যবস্থাপনায় দেশটির অঙ্গীকারবদ্ধ।‘কুকুর সমস্যা’র সমাধান করে সৌদি আরবের পথে ফাবিনিওমরক্কোর প্রশাসন বলছে, তারা ২০১৯ সাল থেকে টিএনভিআর (ট্র্যাপ, নিউটার, ভ্যাকসিনেট, রিলিজ অর্থাৎ ধরো, বন্ধ্যত্ব করাও এবং টিকা দিয়ে ছেড়ে দাও) কর্মসূচি চালাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় কুকুরগুলোকে ধরা, বন্ধ্যত্ব করানো, ভ্যাকসিন দেওয়া এবং আবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই কাজের জন্য বিশেষ ক্লিনিকে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। একই সময়ে তানজিয়ারের হায়াত প্রকল্প ৪,৬০০–এর বেশি কুকুরকে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।তবে প্রাণী অধিকারকর্মীরা এমন ছবি ও সাক্ষ্য প্রকাশ করেছেন, যা সরকারি বিবৃতির বিপরীত। আইএডব্লিউপিসির পরিচালক লেস ওয়ার্ড সিএনএনকে বলেছেন, ‘রাতের অন্ধকারে রাইফেল হাতে মানুষ রাস্তায় বের হয়ে কুকুরকে গুলি করে, আবার অন্যদের (কুকুর) পৌর স্বাস্থ্য ক্লিনিকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে। এমনকি কিছু কুকুর, যাদের ইতিমধ্যেই বন্ধ্যত্ব করা হয়েছে, তারাও ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।’কুকুর হত্যা বন্ধের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে মাঠে ঢুকে পড়েছেন এক প্রাণী অধিকার কর্মী কুকুর হত্যা বন্ধের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে মাঠে ঢুকে পড়েছেন এক প্রাণী অধিকার কর্মীএএফপিআইএডব্লিউপিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর (মরক্কোয়) কুকুর নিধনের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মরক্কো ৩০ লাখ কুকুর হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে।’পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানের মধ্যে বিতর্ক এখন আরও তীব্র হয়েছে। হলিউড অভিনেতা মার্ক রাফালো এই পরিস্থিতিকে ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ বলে মনে করেন এবং এক্সে করা পোস্টে বলেন, ‘একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের প্রস্তুতির জন্য লাখ লাখ কুকুরকে হত্যা করাকে অগ্রগতি বলে না।’মার্তিনেজের বিশ্বকাপ জয়ের পদক পাহারায় ২৪ লাখ টাকার কুকুরক্রীড়াভিত্তিক পোর্টাল দ্য অ্যাথলেটিকের সাংবাদিক সাইমন হিউজের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১০টি সংগঠন আইএডব্লিউপিসিকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে তারা সতর্ক করেছেন এই বলে, ‘বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য কুকুর হত্যা শুধু জাতীয় আইনের বিরুদ্ধে যায় না, এটি টিএনভিআর প্রকল্পগুলোয় তহবিল বরাদ্দের নীতিরও বিরোধী।’ পাশাপাশি তারা দাবি করেছেন, কোনো ব্যক্তি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো পথের প্রাণী হত্যা, নির্যাতন বা আঘাত করলে’ কারাদণ্ড ও জরিমানার যে বিধান রয়েছে, তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হোক।তবে দেশটির প্রাণীসংক্রান্ত আইন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। একদিকে প্রাণী নির্যাতনের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে, অন্যদিকে যারা এসব প্রাণীকে ‘আশ্রয় দেয়, খাবার দেয় বা চিকিৎসা করে’, তাদের জন্য জরিমানার ব্যবস্থাও আছে। ফলে সাধারণ মানুষ পথের কুকুরদের সহায়তা করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে সমালোচকেরা মনে করেন।এ বিতর্কের পেছনে জটিল জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রভাবও আছে। মরক্কোর সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিবছর জলাতঙ্কে প্রায় ৩৩ জনের মৃত্যু হয় এবং পথের কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হন প্রায় এক লাখ মানুষ। হায়াত প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা সালিমা কাদাউইয়ের মতো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘চিহ্নিত কুকুরগুলোকে হত্যা না করে তাদের একই জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি; তারা যেন জলাতঙ্ক প্রতিরোধে পুলিশের মতো কাজ করে।’বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আইএডব্লিউপিসি সতর্ক করে বলেছে, গণহারে কুকুর নিধন করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি, প্রাণী কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন মিলিয়ে বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক নজরদারির কেন্দ্রে। সামনে কী ঘটে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

তিন মাসের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। গত ২ ডিসেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের পরের ব্যস্ততা ছিল টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে অন্তবর্তী সরকারের ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে লিটনদের আর টুর্নামেন্টটিতে খেলা হচ্ছে না।সব ঠিক থাকলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আবার মাঠে নামবে আগামী ১১ মার্চ। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে সেদিন।বিসিবির প্রকাশ করা সূচি অনুসারে, পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায় আসবে ৯ মার্চ। দুই দিন পরই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সিরিজের পরের দুটি ম্যাচ ১৩ ও ১৫ মার্চ। সব ম্যাচই দিবারাত্রির, খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ১৫ মিনিটে। মিরপুরে সিরিজের তিন ওয়ানডে শেষে পাকিস্তান দল ঢাকা ছাড়বে ১৬ মার্চ।এই সিরিজ দিয়েই ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ শুরু হবে বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করতে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৯–এ থাকতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ আছে ১০ নম্বরে।এ বছর সব মিলিয়ে ২৩টি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।
দেশ-বিদেশের খবর
আরও দেখুন →
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় তল্লাশিচৌকিতে ব্যাগ তল্লাশির সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের চোখের ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহ্ আলম (৩৩)। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।আজ শনিবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ সদস্য নায়েক নজরুল ইসলাম বলেন, বেলা দুইটার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের তল্লাশিচৌকি চলছিল। একপর্যায়ে চারজন যুবক তল্লাশিচৌকিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে একজনের কাছে থাকা ব্যাগ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ ব্যাগটি তল্লাশি করতে গেলে যুবকদের একজন শাহ আলমের বাঁ চোখের ওপর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন। ব্যাগের ভেতরে ককটেলসদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। পালানোর সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তাঁরা ককটেল বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে। চলছে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডে ‘জাদুটোনা’ করার অভিযোগে এক নারী ও তাঁর ১০ মাসের শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গত মঙ্গলবার জ্যোতি সিংকু নামের ওই নারীকে পুড়িয়ে হত্যার সময় তাঁর স্বামীর ওপরও হামলা চালানো হয়। তিনি গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।এ ঘটনায় অন্য সন্দেহভাজনদের ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যে, আটক হওয়া ব্যক্তিরা পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাঁরা এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশটিতে কালোজাদু করা সন্দেহে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই নারী।মঙ্গলবার জ্যোতি সিংকু ও তাঁর শিশুপুত্রকে হত্যার ঘটনার কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী বিহার রাজ্যে জাদুটোনার অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ আছে, তাঁদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।এ ধরনের ঘটনা সাধারণত ভারতের দরিদ্র ও প্রান্তিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোয় বেশি দেখা যায়। এসব অঞ্চলের অনেকে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। তা ছাড়া, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা না থাকায় সেখানকার বাসিন্দারা চিকিৎসাবিষয়ক পরামর্শের জন্য হাতুড়ে চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।ঝাড়খন্ড রাজ্যে কুদসাই নামের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জ্যোতি সিংকুকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান। এখানে প্রায় ৫০টি মাটির ঘর রয়েছে।গ্রামে ঘটা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ওই সহিংসতাকে উসকে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে আছে—হঠাৎ গবাদিপশুর মৃত্যু এবং পুস্তুন বিরুয়া নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির অসুস্থতা ও মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া গুজব।পুস্তুন বিরুয়ার স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, তাঁর স্বামী উদ্বেগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং বারবার অচেতন হচ্ছিলেন। এ অবস্থায় স্বামীর চিকিৎসার জন্য একজন হাতুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর শরণাপন্ন হন। যেসব গ্রামে সচরাচর চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না, সেসব গ্রামে চিকিৎসার জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদেরই শরণাপন্ন হয়ে থাকে মানুষ। ওই স্বাস্থ্যসেবা কর্মী জানোকে বলেন, তাঁর স্বামী কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন না।স্বামীকে হাসপাতালে না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জানো বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, তাই এত দূরে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।’এদিকে গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে স্থানীয় বাসিন্দা জ্যোতি সিংকু জাদুটোনা করেন এবং ওই ব্যক্তির অসুস্থতার জন্য তিনিই দায়ী।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্তুন বিরুয়ার মৃত্যু হয়। আর সেই রাতেই হামলা হয় জ্যোতির বাড়িতে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জ্যোতির স্বামী কোলহান সিংকুর ভাষ্যমতে, প্রায় এক ডজন লোকের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান এবং তাঁর স্ত্রী ও শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে মারেন।কালো জাদুর অভিযোগে নিশ্চিহ্ন পরিবার, বিহারের গ্রামটিতে এখন নিস্তব্ধতাহাসপাতালের শয্যায় শুয়ে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কোলহান বলেন, ‘বিষয়টি গ্রাম পরিষদে মীমাংসা করার জন্য আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু হামলাকারীরা আমার কথা শোনেননি।’কোলহান সিংকু ও তাঁর পরিবারের আরেক সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ এ ঘটনায় হত্যা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করেছে।পুলিশ বলেছে, চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হামলাকারী দলের অন্য সদস্যদের ধরতে একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে গ্রামীণ এলাকাগুলোয় বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে বলে জানায় পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেওয়ার পর খুব দ্রুতই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার রাতে সারা বিশ্ব থেকে পণ্য আমদানিতে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এ আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্যঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক কার্যকর হবে।ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে গতকাল দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি প্রেসিডেন্টকে এ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ কারণে ওই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদালতের রায়ে আগের শুল্কব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও নতুন কৌশলে ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্প, অ্যারোস্পেস পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কৃষিপণ্য এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।শুল্ক বাতিলের রায়ে চটেছেন ট্রাম্প, বিচারপতিদের ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ রায়ের ফলে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এ অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চলবে।আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে।স্কট বেসেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং বলেন, ‘কানাডার উচিত আরও কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকা।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও নতুন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর মতে, আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপে তারা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই, পাল্টা শুল্ক ২০ থেকে কমে ১৯% ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। তবে গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করছেন তিনি। শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বিরাট এক ধাক্কা হয়ে আসে। ওই শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্প দিনটিকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ (অর্থনৈতিক) বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য তা বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসে।
দৈনন্দিন জীবন
আরও দেখুন →
উপকরণরুই মাছের টুকরা ৬টিমাঝারি আলু ৩টিপেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচআদাবাটা আধা চা-চামচরসুনবাটা ১ চা-চামচজিরাগুঁড়া আধা চা-চামচধনেগুঁড়া আধা চা-চামচশর্ষের তেল দেড় টেবিল চামচহলুদগুঁড়া ১ চা-চামচমরিচগুঁড়া ১ চা-চামচলবণ পরিমাণমতোতেজপাতা ২টিদারুচিনি ১ টুকরাকাঁচা মরিচ ৩–৪টিধনেপাতাকুচি ১ টেবিল চামচ।প্রণালিআলু সেদ্ধ করে আধা ভাঙা করে রাখুন।তেলে পেঁয়াজকুচি, তেজপাতা, দারুচিনি, হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া, আদাবাটা, রসুনবাটা, জিরাগুঁড়া, ধনেগুঁড়া ও লবণ দিয়ে কয়েক মিনিট কষান।রুই মাছের টুকরা দিন। মাছ কিছুটা সেদ্ধ হয়ে এলে আলু দিন।দেড় কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিন।আলুর ঘাঁটি রান্না হয়ে গেলে কাঁচা মরিচ, ধনেপাতাকুচি দিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।

নো মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই আমার স্কিনে ইরিটেশন, একনে দেখা দেয়”- এরকম সমস্যা কিন্তু আমরা অনেকের কাছ থেকেই শুনে থাকি। যদি আপনার স্কিন কন্ডিশন সেনসিটিভ হয়ে থাকে, তাহলে আপনি এই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। অনেকেই মনে করেন সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ করাই যাবে না! আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। আমরা কিছু ইজি ও সিম্পল টিপস ফলো করার মাধ্যমে সেনসিটিভ স্কিনকে ইরিটেট না করেই পারফেক্ট মেকআপ লুক পেতে পারি। আজকের ফিচারে থাকছে এ সম্পর্কে বিস্তারিত।কীভাবে বুঝবেন আপনার স্কিন সেনসিটিভ?প্রথমেই সেনসিটিভ স্কিন কী, সেটা নিয়ে আমাদের জানতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের মেকআপ বা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টস ব্যবহার করে থাকি। সেনসিটিভ স্কিন হলো একটি স্কিন কনসার্ন যার কারণে বিভিন্ন বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে স্কিনে বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন: লালচে ভাব, ব্রণ, র্যাশ, অ্যালার্জি অথবা ইচিনেস দেখা দেয়। এছাড়াও ধুলাবালি, কড়া রোদ ইত্যাদির সংস্পর্শে আসলেও সেনসিটিভ স্কিনে একই প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে।এখন প্রশ্ন হলো স্কিন কেন সেনসিটিভ হয়ে যায়? ড্যামেজড স্কিন ব্যারিয়ার, ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন, পল্যুশন, ওয়েদার, হরমোনাল ইমব্যালেন্স ইত্যাদির কারণে আমাদের স্কিন সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে। যার ফলে মেকআপ বা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারে স্কিন রিয়্যাক্ট করে।সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ ও কিছু ইফেক্টিভ টিপসসেনসিটিভ হলে অল্পতেই স্কিনে ইরিটেশন তৈরি হয়। আমরা যদি কিছু ছোট ছোট টিপস ফলো করে মেকআপ করি, তাহলেই কিন্তু খুব ইজিলি আমাদের পছন্দের মেকআপ লুক পেতে পারি। তাহলে চলুন জেনে নেই কিছু মেকআপ টিপস যা আমাদের সেনসিটিভ স্কিনের জন্য কার্যকরী ফলাফল দিতে পারে।সঠিক মেকআপ প্রোডাক্ট সিলেকশনসঠিক ফর্মুলার মেকআপ প্রোডাক্ট সিলেকশন সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ভুল প্রোডাক্ট সিলেকশন সেনসিটিভ স্কিনে নানারকম কমপ্লিকেশন সৃষ্টির পাশাপাশি ড্যামেজের কারণ হতে পারে। সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে অবশ্যই অ্যালকোহল ও ফ্রেগ্রেন্স ফ্রি মেকআপ প্রোডাক্ট সিলেক্ট করতে হবে। কেননা এই উপাদানগুলো সাধারণত স্কিনের সেনসিটিভিটিকে ট্রিগার করে। খেয়াল রাখতে হবে এই প্রোডাক্টগুলো যেন অবশ্যই নন কমেডোজেনিক হয়।নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্টসেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারে রিঅ্যাকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই যেকোনো নতুন প্রোডাক্ট ফেইসে ব্যবহারের পূর্বে আমাদেরকে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে। এর জন্য কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে আমাদের কানের পেছনের অংশে অ্যাপ্লাই করে রাখতে হবে কিছুটা সময়। যদি ব্যবহারের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কোনোরকম রিঅ্যাকশন দেখা না দেয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে প্রোডাক্টটি স্কিনের জন্য নিরাপদ।জেন্টল ক্লেনজার ব্যবহারমেকআপ করার আগে স্কিন সঠিকভাবে ক্লিন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে স্কিন প্রোপারলি ক্লিন না করে মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে দেখা দিতে পারে ইরিটেশন। পি এইচ ব্যালেন্সড সোপ ফ্রি ক্লেনজার বেছে নিতে হবে।ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাইস্কিন প্রোপারলি ক্লিন করে নেওয়ার পরেই কিন্ত আপনার স্কিন মেকআপ অ্যাপ্লাই করার জন্য রেডি হয়নি! মেকআপ এর আগে স্কিনকে প্রোপারলি ময়েশ্চারাইজড করে নিতে হবে। সেরামাইড যুক্ত ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিতে পারেন। আপনার স্কিন যদি ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজড থাকে তাহলে একটি স্মুথ মেকআপ বেইজ তো পাবেনই, পাশাপাশি স্কিনে সম্ভাব্য ইরিটেশনের রিস্কও কিন্তু কমে যায়!সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাইসেনসিটিভ স্কিনের ব্যারিয়ার সাধারণত কিছুটা দুর্বল হয়ে থাকে। তাই সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের আরো ক্ষতি করতে পারে। ডে টাইমে মেকআপের আগে সানস্ক্রিন কিন্তু স্কিপ করা যাবে না। সেনসিটিভ স্কিনের জন্য মিনারেল সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।মেকআপ টুলস রেগুলার ক্লিন করাযদি আমরা মেকআপ টুলগুলোর ক্ষেত্রে প্রোপার হাইজিন এনশিওর না করতে পারি, তাহলে কিন্তু আমরা স্কিনকে প্রোটেক্ট করতে পারবো না। সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে মেকআপ টুলস প্রোপারলি ক্লিন আছে কিনা তা দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেননা সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে নোংরা মেকআপ ব্রাশ বা বিউটি ব্লেন্ডার থেকে হতে পারে ব্যাকটেরিয়াল কন্টামিনেশন, যা স্কিনকে ইরিটেট করতে পারে। তাই অবশ্যই ডেইলি বেসিসে আমাদের মেকআপ টুলস ক্লিন করতে হবে এবং সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।প্রোপারলি মেকআপ রিমুভ করামেকআপ যেভাবে আমাদের ন্যাচারাল ফেইস ফিচারস এনহ্যান্স করে, ঠিক সেভাবেই মেকআপ থেকে কিন্তু আমাদের স্কিন ড্যামেজও হতে পারে, যদি আমরা প্রোপারলি মেকআপ রিমুভ না করি। স্কিনকে হেলদি রাখতে অবশ্যই স্কিন থেকে মেকআপ সঠিকভাবে রিমুভ করা জরুরি। বিশেষ করে সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় মেকআপ নিয়ে থাকার পর যদি ঠিকমতো মেকআপ রিমুভ করা না হয়, তাহলে স্কিনে ব্রেকআউট দেখা দিতে পারে সহজেই। তাই সেনসিটিভ স্কিনে মেকআপ অ্যাপ্লাই করলে তা অবশ্যই সঠিকভাবে রিমুভ করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাবল ক্লেনজিং কিন্তু মাস্ট! প্রথম ধাপে নিজের পছন্দের অয়েল ক্লেনজার বা মাইসেলার ওয়াটার বা ক্লেনজিং বাম বেছে নিতে পারেন। তারপর রেগুলার ওয়াটার বেইজড ক্লেনজার দিয়ে ফেইস ভালোভাবে ক্লিন করে নিন। সেনসিটিভ স্কিনের জন্য স্পেশালি ফর্মুলেটেড প্রোডাক্ট রেঞ্জ এখন অ্যাভেলেইবল, সেগুলো চুজ করতে পারেন।

আমরা যারা সবেমাত্র মেকআপ নিয়ে জানছি, প্রায়ই আমাদের প্রশ্ন থাকে “প্রাইমার ব্যবহার করা কি জরুরি?” অথবা “প্রাইমার কেন ব্যবহার করবো?” প্রাইমার মেকআপ প্রোডাক্টসের মধ্যে অন্যতম একটি প্রোডাক্ট, যা আমাদেরকে ফ্ললেস মেকআপ লুক ক্রিয়েট করতে সাহায্য করে। যদি আপনার মেকআপ রুটিনে প্রাইমার অনুপস্থিত থেকে থাকে, তাহলে মনের মতো মেকআপ লুক পাওয়া একটু কঠিনই বটে। আজকের ফিচারে এমন কিছু প্রাইমার হ্যাকস সম্পর্কে ধারণা দিবো যা আপনাকে মেকআপ গেইমকেই চেঞ্জ করে দিবে।প্রাইমার ব্যবহারের সুবিধাপ্রাইমার হলো একটি মেকআপ প্রোডাক্ট যা সাধারণত স্কিন কেয়ারের পরে এবং ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে অ্যাপ্লাই করা হয়ে থাকে। প্রাইমার মূলত আমাদের স্কিন ও মেকআপের মধ্যকার ব্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে এবং স্কিনের ইমপারফেকশনস, যেমন, পোরস অথবা একনে ব্লার করার মাধ্যমে স্কিনে স্মুথ টেক্সচার দেয়। প্রাইমার ইউজ করার মূল বেনিফিটগুলো হলো-স্কিন প্রোটেকশনপ্রাইমার স্কিন ও মেকআপের মধ্যকার প্রোটেকটিভ লেয়ার হিসেবে কাজ করে এবং স্কিনকে মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে সম্ভাব্য ইরিটেশন অথবা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।পারফেক্ট মেকআপ বেইজপ্রাইমার ব্যবহারের ফলে স্কিনের অতিরিক্ত অয়েল ও সেবাম অ্যাবজর্ব হয়ে যায়, যা আমাদেরকে পারফেক্ট মেকআপ বেইজ তৈরিতে সাহায্য করে।স্মুথ ফিনিশিংপ্রাইমার আমাদের স্কিনের পোরস এবং একনের মতো ইমপারফেকশনস ব্লার করার মাধ্যমে স্কিনের টেক্সচার ভিজিবলি ইমপ্রুভ করে। এতে করে মেকআপ প্রোডাক্ট স্কিনে সহজেই ব্লেন্ড হয়ে যায় এবং স্মুথ ফিনিশিং দেয়।দারুণ কিছু প্রাইমার হ্যাকসপ্রাইমার যে একটি মাল্টিপারপাস প্রোডাক্ট তা বেশিরভাগই কিন্তু জানেন না। বেইজ মেকআপ লং-লাস্টিং করা ছাড়াও প্রাইমার মেকআপের আরো অনেক কাজে ব্যবহার করা যায়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক অ্যামেজিং সেই প্রাইমার হ্যাকস গুলো-DIY বিবি ক্রিমযদি ঘরে বসে নিজে নিজে বিবি ক্রিম বানিয়ে ফেলা যায়, তাহলে কেমন হয় বলুন তো? এর জন্য আপনার মাত্র তিনটি উপকরণ প্রয়োজন, ময়েশ্চারাইজার, প্রাইমার ও ফাউন্ডেশন। ময়েশ্চারাইজার, প্রাইমার আর কিছুটা ফাউন্ডেশন একসাথে মিক্স করে নিলেই রেডি হয়ে যাবে DIY বিবি ক্রিম, যা আপনাকে দিবে এভ্রিডে ফ্রেন্ডলি একটা ন্যাচারাল লুক। যাদের কাছে ফাউন্ডেশনের কভারেজ হেভি মনে হয়, তারা প্রতিদিন ইউজের জন্য এই বিবি ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারেন।আইশ্যাডো বেইজঅনেকেই বলেন তাদের চোখে আইশ্যাডো অ্যাপ্লাই করলে কিছুক্ষণ পরেই নাকি ক্রিজ করে। আইলিডে প্রাইমার ব্যবহার করলে ক্রিজিংয়ের কোনো চান্সই থাকে না। প্রাইমার আইশ্যাডো বেইজ হিসেবে কাজ করে, যা স্মুথ সারফেস ক্রিয়েট করে মেকআপ অ্যাপ্ললিকেশনের জন্য। এতে করে আইশ্যাডো ক্রিজ করেনা এবং দীর্ঘসময় পর্যন্ত আই মেকআপ স্ম্যাজপ্রুফ থাকে।আইব্রো গ্রুমিংনিট লুক পেতে গেলে আপনার আইব্রো ভালোভাবে সেট করা খুবই জরুরি। হাতের কাছে আইব্রো জেল না থাকলে একটি স্পুলিতে সামান্য প্রাইমার লাগিয়ে আপনার আইব্রোতে ব্রাশ করে নিন, দেখবেন খুব সহজে সেট হয়ে যাবে আপনার আইব্রো।আইল্যাশের লেন্থ বৃদ্ধিআমরা মেয়েরা সাধারণত আইল্যাশ নিয়ে অনেক স্ট্রাগল করি। কখনো কখনো মাশকারা ব্যাবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ল্যাশ লেন্থ পাইনা। এক্ষেত্রেও কিন্তু প্রাইমার দারুণভাবে হেল্প করতে পারে। মাশকারা ব্যবহারের পূর্বে একটি ক্লিন স্পুলি দিয়ে আইল্যাশে প্রাইমার অ্যাপ্লাই করে নিন। তারপরে মাশকারা অ্যাপ্লাই করে দেখুন ম্যাজিক! প্রাইমার অ্যাপ্লাই করার কারণে আপনার ল্যাশ ইনস্ট্যান্টলি বেশ বড় ও ঘন দেখাবে।শুকিয়ে যাওয়া জেল লাইনারের রিইউজআমার পার্সোনালি আইলাইনারের ক্ষেত্রে শার্প ও চিকন উইং বেশ পছন্দ। আর এক্ষেত্রে জেল আইলাইনারের জুড়ি মেলা ভার। তবে জেল লাইনারের তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে অনেক সময় প্রোডাক্ট নষ্ট হয়ে যায়। আমি এই সমস্যার সমাধান হিসেবে অল্প পরিমাণ প্রাইমার জেল লাইনারের সাথে মিক্স করে নেই। সাথে সাথেই আমার শুকিয়ে যাওয়া জেল লাইনার পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যায়!হাইলাইটার বেইজপাউডার হাইলাইটার ব্যবহারের আগে অল্প একটু প্রাইমার অ্যাপ্লাই করলে স্কিনে হাইলাইটার অ্যাপ্লিকেশন অনেক সুন্দর ও ন্যাচারাল দেখায়।স্ম্যাজপ্রুফ লিপ মেকআপলিপস্টিক ছড়িয়ে যাওয়া আমাদের একটি কমন সমস্যা। পারফেক্ট স্ম্যাজপ্রুফ লিপ মেকআপের জন্যও কিন্তু প্রাইমার খুব কার্যকরী! একটি কনসিলার ব্রাশের সাহায্যে কিছুটা লিপ প্রাইমার ঠোঁটে অ্যাপ্লাই করে নিন। তারপর লিপলাইনার ও লিপস্টিক অ্যাপ্লাই করুন। এতে করে লিপস্টিক ছড়িয়ে যাওয়ার চান্স অনেক কমে যায়।হেয়ার স্প্রের বিকল্পএকটি সুন্দর হেয়ার স্টাইল করার পরে দেখলেন বেবি হেয়ারের জন্য লুকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আর এই বেবি হেয়ার তো হেয়ার স্প্রে ছাড়া সেট করা সম্ভব নয়। কিন্তু হাতের কাছে তো হেয়ার স্প্রে নেই! চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই, আপনার ফিংগারের সাহায্যে সামান্য প্রাইমার দিয়ে বেবি হেয়ারগুলোকে সেট করে নিন।আশা করি এই প্রাইমার হ্যাকসগুলো আপনার ডেইলি মেকআপ এক্সপেরিয়েন্স এনহ্যান্স করবে। যেকোনো প্রোডাক্ট ইউজ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন অথেনটিক প্রোডাক্ট চুজ করার। যেকোনো প্রোডাক্ট ইউজ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন অথেনটিক প্রোডাক্ট চুজ করার। অথেনটিক মেকআপ, স্কিনকেয়ার ও হেয়ারকেয়ার প্রোডাক্টসের জন্য আমি সবসময়ই সাজগোজ এর উপর ভরসা রাখি। আপনারাও ভিজিট করুন সাজগোজের ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ফিজিক্যাল স্টোরে। সাজগোজের বেশ কয়েকটি ফিজিক্যাল শপ রয়েছে। এ শপগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, ইস্টার্ন মল্লিকা, ওয়ারীর র্যাংকিন স্ট্রিট, বসুন্ধরা সিটি, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে), মিরপুরের কিংশুক টাওয়ারে ও চট্টগ্রামের খুলশি টাউন সেন্টারে অবস্থিত। এই শপগুলোর পাশাপাশি চাইলে অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকেও কিনতে পারেন আপনার দরকারি বা পছন্দের সব প্রোডাক্টস।
টিপস এবং ট্রিক
আরও দেখুন →
যাই হউক – অতীতের হাতে লেখা পোস্ট হতে ফটো আর ভিডিও সেকশনের পরবর্তী শক্তিশালী একটা সোস্যাল টুল হয়ে দাড়িয়েছে “ফেসবুক লাইভ”।বোঝার সুবিধার্থে উদাহরণস্বরূপ “পরীমনির লাইভ” এই কিওয়ার্ড (কি-ফ্রেইস) নানান সময়ে ফেসবুক সার্চের ট্রেন্ড জুড়ে ছিলো একসময়; আবার আজকের ভাইরাল মিজান হতে কেক বিক্রেতা ভাইয়া – আপু (ভাইয়াপু) সকলেই ফেসবুক ভিডিও এর কল্যানে এতোটা প্রচার ও প্রাসারে পয়াদা হয়েছে [পয়দা শব্দটা শুনতে শ্রুতিকটু তবে কটুকৃত্তি হতেই যে ফেসবুক লগারিদমে আমরা তাদের রিচ করাই সেটিও পরোক্ষভাবে সত্য]।যাই হউক এই ফেসবুক ভিডিও এর লাইভ সেকশন অর্থাৎ Facebook Live যে কতোটা শক্তিশালী টুল সেটা হয়তো আমরা জেনেও জানি না!কেননা প্রথমত ফেসবুক লাইভে পোস্ট অপেক্ষা ভিডিওতে তুলনামূলক অধিক এনগেইজ হওয়া – লাইভ (এই মুহুর্তে চলমান) বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে সবার তীব্র আগ্রহ – লাইভে যেকোন কোন মন্তব্য সরাসরি মূল বিষয়ের “কর্তা” কর্তৃক রিচ হওয়া ইত্যাদি।একটু কঠিন লাগলেও সহজ করে বলি – আপনি আপনার ফেসবুকে পোস্ট লিখে কিংবা আপাত রিলস ভিডিও করে যতোটা না রিচ গেইন করে সোস্যাল ইনফ্লুয়েঞ্জ গেইন করতে পারবেন তারও অধিক ইফিসিয়েন্সি পেতে পারেন ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে – এটা ইনস্ট্যান্ট ইফেক্টিভ।ধরুন কেউ আপনার সাথে দূর্নীতি করছে বা করতে চাইছে [উদাহরণস্বরূপ না হয় একজন ঘুষখোর পুলিশ কর্মকর্তার কথা কল্পনা করা যাক – যিনি আপনার নিকট ঘুষ চাইছেন] – তৎক্ষণাৎ আপনি আপনার মোবাইলের ফেসবুক এপ খুলে লাইভ শুরু করে দিলে দেখবেন অপরপক্ষের রূপ একদম বদলে গিয়েছে!শুধু যে ইথিক্যাল বিষয় তা নয় বরং “লাইভ” করার এক হুমকি সাইবার জগতে সোস্যাল লাইফ কতোটা ভয়ংকর তা আমরা ইদানীংকালের বহু ঘটনা হতেই জেনেছি – উদাহরণস্বরূপ ৫০১ নং কক্ষের হুজুর [ওয়েট…আমি এখানে কাউকে জাস্টিফাই করছি না বরং ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু বা Root কিভাবে ডালপালা বিস্তার করে এক হুজুরের জীবন ম্রিয়মাণ করেছিলো সেটা বোঝাতেই প্রসঙ্গত উদাহরণ নিয়ে আসা; এতে এতো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে জ্বালার প্রয়োজন নেই]। সুতরাং ফেসবুকের এই সোস্যাল মিডিয়ার Live বিষয়টা আমাদের Life এর জন্য কতোটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে সেটা একটু মাথা খাটালেই বুদ্ধি আর কুবুদ্ধি দুইটাই জন্মে যাবে….আচ্ছা এখানে একটি বড় প্রশ্ন এসে দাড়ায় যে এমন কার্যকরী ফেসবুক লাইভ করতে যতোটা এনগেজমেন্ট দরকার সেটা তো আপনার নেই; অর্থাৎ একটা ফেসবুক লাইভ যা সোস্যাল টুল হিসেবে আপনার স্বার্থ সিদ্ধি করাতে পারে এমনটাতে দরকার প্রচুর পরিমানে লাইভ অডিয়েন্স – যারা ওয়াচিং করবে এবং আপনার স্বার্থ রক্ষার মতো উপযোগী করে কমেন্ট করবে। এখানেই Mind Hacking এর অন্যতম ইলিমেন্ট Social Engeniering কাজে লাগানো যায়। ফেসবুক লাইভের মতোই হুবহু ক্লোন একটি ওয়েব এপ্লিকেশন যা কিনা আপনার ডিভাইসে ব্যাক/ফন্ট ক্যামেরা এক্সেস করে মক (Mock) অডিয়েন্স (লাইভ ওয়াচিং ভিউয়ার) + কাস্টমাইজড কমেন্ট + রিএ্যাক্ট ইত্যাদি।উপরন্তু বিষয়টা ক্লোনিং শুধুমাত্র UI নয় বরং টোটাল ফাংশানটাই ভিজ্যুয়ালি সেইম-টু-সেইম হতে হবে – তাতেই না আপনার উদ্দেশ্য সাকসেসফুল হবে :-/এমনই একটি প্রজেক্ট হলো FbLive যা খুব সাধারণ একটি ওয়েব এপ্লিকেশন’ই হয়ে উঠতে পারে অভাবনীয় সক্ষমতার এক দারূণ সোস্যাল হ্যাকিং টুল। ওয়েব এপ্লিকেশন’টি আপনি সরাসরি লিংকে এক্সেস করে আপনার ব্রাউজারের ক্যামেরা পারমিশন এলাও করে (ফন্ট/ব্যাক মোডে সুইচিং করতে পারেন) স্রেফ মোবাইলটি আপনার পারিপার্শ্বিক ঘটনার সামনে তুলে ধরবেন (ঠিক আয়নার মতো) যেখানে আপনি যেভাবে চাইবেন ঘটনা হতে ইফেক্টিভিটি গেইন করতে সেভাবেই আগে হতে কমেন্ট ও রিএ্যাক্ট কাস্টমাইজ করে নিবেন (সামান্য জাভাস্ক্রিপ্টের কারসাজি) – ব্যাস, ভাইরাল নামক ভাইরাস আশঙ্কা কি অতঙ্কে আপনার স্বার্থ সিদ্ধি!কি হে….বড়ই আনইথিক্যাল মনে হচ্ছে?তা তো বটেই – তথাপি ডার্ক সাইকোলজির জগত আপনার কল্পনায় চোখ বন্ধ করা অন্ধকারের চেয়েও আর গভীর কালো; একটু শুধু ব্রেইনের বন্ধ দুয়ায় খুললেই হয়।তথাপি এটা হতে আপনি কেবলি খারাপ বিষয়ে স্বার্থ সিদ্ধি নয় বরং সমাজের নানান দূর্নীতি ও অপকর্ম বন্ধেও কাজে লাগাতে পারেন – এটি আপনার জন্য একটি সুরক্ষা নাইফের মতোই; আপনি যেমন ইচ্ছা তেমনি ব্যবহার করতে পারেন।আর হ্যা, এটি গিটহাব ওপেন রিসোর্স তাই এখানে সেনসেটিভ কোন ডাটা ব্যাকএন্ডে রাখা হয়না সেটি সহজেই কোড এনালাইসিস করে ভেরিফাই করতে পারেন [ গিট রিপোজিটরী লিংক https://github.com/HumayunShariarHimu/FbLive ] – আর আপনার প্রয়োজন মতো সেটাকে আরও অধিক অপ্টিমাইজড বা রেসপন্সিভ করতে মোডিফাই করতে পারেন।আপনি যদি বিষয়টাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চান তাহলে ওয়েব এপ্লিকেশন’টিকে এনড্রোয়েড ওয়েব ভিউ বা ন্যাটিভ এপ্লিকেশনেও কনভার্ট করে নিতে পারেন (তাতে অফলাইনেও এটা সব সময় আপনার কাজের জন্য রেডী থাকবে)।সুতরাং?সুতরাং আরকি – বুদ্ধির বন্ধন খুলুন; একটু সাইকোলজি’ই হতে পারে আপনার জীবনের নানান সমস্যা সমাধানের অনেকখানি সলিউশন; শুধুমাত্র নৈতিকতা রেখে পলিউশন না করলেই হলো।

অনলাইন কেনাকাটার প্রসার হওয়ার কারণে ই-কমার্সে জড়িত অনেকেই। কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পেজ খুলে পণ্যের বিকিকিনি করছেন বা প্রচারণা করছেন, যা এফ-কমার্স হিসেবে পরিচিত। ফেসবুক পেজে ব্যবহারকারীর সংখ্যা, তাদের আনাগোনা বাড়ানো অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। তবে সঠিক কৌশল, নিয়মিত কিছু পরিবর্তন ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করলে অল্প সময়েই ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করা যায়। ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় করার আটটি কৌশল জেনে নেওয়া যাক।১. মানসম্পন্ন ও প্রাসঙ্গিক আধেয় প্রকাশফেসবুক পেজ পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসম্পন্ন ও প্রাসঙ্গিক আধেয় বা কনটেন্ট প্রকাশ করা। আর তাই প্রকাশিত আধেয় দর্শকদের আগ্রহ এবং চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক বা নিম্নমানের আধেয় দিলে দর্শকেরা আগ্রহী না হওয়ায় পেজের এনগেজমেন্ট কমে যায়।২. পেজের প্রোফাইলে সঠিকভাবে তথ্য উপস্থাপনপেজের অ্যাবাউট সেকশন দর্শকদের প্রথমেই আকর্ষণ করে। আর তাই এখানে এমন তথ্য দিতে হবে, যা ব্র্যান্ডকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং দর্শকের কৌতূহল মেটায়। দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী এই অংশটি সাজালে পেজের প্রতি দর্শকদের আস্থা বাড়বে।৩. ক্রস প্রমোশনফেসবুকে পেজ চালুর পর জনপ্রিয় পেজ বা প্রোফাইলের মাধ্যমে প্রচার করা যেতে পারে। এ ছাড়া পেজে ফলো এবং শেয়ার বাটন যুক্ত করলে দর্শকদের পেজে যুক্ত হওয়া সহজ হয়। ক্রস প্রমোশন কৌশলটি নতুন দর্শক যুক্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকর।৪. ফেসবুকের নীতিমালা অনুসরণপেজে ফেসবুকের নীতিমালা মেনে আধেয় পোস্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভ্রান্তিকর, ভুয়া বা নীতিমালা লঙ্ঘনকারী আধেয় পেজের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিতে পারে। তাই ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী মানসম্মত ও আকর্ষণীয় আধেয় প্রকাশ করতে হবে।৫. ক্রস পেস্টিংনির্মাতার যদি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে একই আধেয় ফেসবুক পেজের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামেও পোস্ট করতে হবে। এই কৌশলে আধেয়টি বেশিসংখ্যক দর্শক দেখতে পারেন এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পেজের পরিচিতি বৃদ্ধি পায়।৬. লাইভ সেশনের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগফেসবুকে লাইভ সেশন পরিচালনা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি চমৎকার উপায়। লাইভে প্রশ্নোত্তর পর্ব যুক্ত করে সেশনের ইন্টারঅ্যাকশন বাড়ানো যেতে পারে। এতে দর্শকদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এ জন্য তাদের প্রয়োজন বুঝতে লাইভ সেশন বিশেষভাবে কার্যকর।৭. বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করাফেসবুক পেজে প্রদর্শন করা বিজ্ঞাপন অনেক সময় বিরক্তির কারণ হতে পারে। তবে ফেসবুকের অ্যাড প্রেফারেন্স সেকশনে গিয়ে নির্মাতা পছন্দমতো বিজ্ঞাপন ক্যাটাগরি বেছে নিতে পারেন। আর তাই ফেসবুক পেজে দর্শকদের পছন্দমতো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে হবে।৮. ফেসবুক উপাত্ত বিশ্লেষণফেসবুক পেজের তথ্য বা উপাত্ত ডাউনলোড করা যায়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সহজেই বোঝা যায় কোনো ধরনের আধেয় দর্শকেরা বেশি পছন্দ করছে। আর তাই এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী আধেয় তৈরি করতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
আরও দেখুন →
২০২৫ সালে প্রযুক্তি বিশ্বে অনেক কিছুই ঘটেছে। তবে দুটি শব্দই সব শিরোনাম দখল করে রেখেছিল—‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। গুগল, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। শুধু তা–ই নয়, এআই এখন আমাদের ব্যবহারের প্রায় প্রতিটি প্রযুক্তিপণ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।২০২৬ সালের প্রযুক্তিপ্রবণতাগুলোতে এআই যুক্ত থাকবে। জেনারেটিভ এআই এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো প্রযুক্তি বিশ্বে তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে।এআইয়ের বাইরেও আগামী বছর আরও নমনীয় ডিসপ্লেসহ নতুন সব ফোল্ডেবল ফোনের দেখা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া কনজিউমার মার্কেটে প্রচুর রোবট দেখা যাবে। অ্যাপল, স্যামসাং, গুগল ও মাইক্রোসফটের নিয়মিত উদ্ভাবন তো থাকছেই। দেখে নিন কী কী ঘটতে যাচ্ছে নতুন বছরে—স্মার্ট চশমাপ্রযুক্তি বিশ্বে আগামী বছর স্মার্ট চশমা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে। ইতিমধ্যে মেটা ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা দেখিয়েছে। মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জনসমক্ষে মেটা রে-ব্যান স্মার্ট চশমা পরেছেন। সিলিকন ভ্যালির অনেক নেতার মতোই জাকারবার্গও এখন স্মার্ট চশমার ওপর বাজি ধরছেন।স্যামসাং, অ্যাপল এবং গুগল—সবাই নিজস্ব স্মার্ট চশমা তৈরি করছে বলে গুঞ্জন আছে বা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে আমরা এক্সরিয়েল ওয়ান প্রো এআর চশমার উন্মোচনও দেখা গেছে। আগামী বছর আরও অনেক স্মার্ট এআর চশমা বাজারে আসতে পারে।সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তারা একে ব্যক্তিগত কম্পিউটিংয়ের ভবিষ্যৎ মনে করছেন। তবে এ নিয়ে কিছুটা সংশয়ও আছে। মেটাভার্স নিয়ে জাকারবার্গ এর আগে চরম ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। মানুষ সাধারণত প্রয়োজনের খাতিরেই চশমা পরে। এ ছাড়া গোপনীয়তার প্রশ্ন তো আছেই। ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনযুক্ত চশমা পরে কেউ আপনার প্রতিটি কথোপকথন রেকর্ড করছে—এটা অনেকেই পছন্দ করবেন না।ভাঁজ করা ফোনএকসময় ভাঁজ করা মোবাইল ফোন শখের বশে অনেকে ব্যবহার করতেন। কিন্তু মূলধারায় আসছে ফোল্ডেবল ফোন। বছরের পর বছর ধরে এগুলো বাজারে আছে; কিন্তু এ ধরনের ফোনের ব্যবহার নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা ছিল। তবে সমস্যাগুলো এখন নেই বললেই চলে।মটোরোলা রেজর আল্ট্রা বা গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এর মতো ফোনগুলো এর প্রমাণ। তবে এই বাজারে অ্যাপলের প্রবেশের অপেক্ষায় সবাই চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে। ফোল্ডেবল ফোন ভুলে যান, এবার তৈরি হন ট্রাই-ফোল্ডিং (তিন ভাঁজ করা যায় এমন) ফোনের জন্য।২০২৬ সালে অবশেষে ‘আইফোন ফোল্ড’-এর অভিষেক ঘটতে পারে। যদি কেউ এ প্রযুক্তিকে মূলধারায় নিয়ে আসতে পারে, তবে তা হলো অ্যাপল। ২০২৫ সাল যদি আল্ট্রা-থিন ফোনের বছর হয়, তবে ২০২৬ হবে ফোল্ডেবল ফোনের বছর।ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিশ্বাস করেন এজিআই হাতের নাগালে। ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিশ্বাস করেন এজিআই হাতের নাগালে।হাতের নাগালে এজিআইবিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এআইয়ের উন্নতি চলবে, তবে ২০২৬ সালে এজিআই অধরাই থাকবে। এজিআই বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স হলো এআই শিল্পের পরম লক্ষ্য। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা মানুষের সমান বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন।সহজ কথায়, এটি কোনো মানুষের তত্ত্বাবধান ছাড়াই প্রায় সব কাজ করতে পারবে। এ লক্ষ্যেই এখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, এআই চ্যাটবটগুলো এনএফটির মতো সাময়িক উন্মাদনা মাত্র। তবে ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বিশ্বাস করেন, এজিআই হাতের নাগালে।তবে বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আর আগের মতো জ্যামিতিক হারে উন্নতি করতে পারছে না। জিপিটি-৫ যখন এ বছর মুক্তি পায়, তখন অনেকেই হতাশ হয়েছিলেন। তাই, ২০২৬ সালে এজিআই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতেই থেকে যাবে, নাকি বাস্তবে রূপ নেবে, তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।চাপে পড়বে অ্যাপল২০২৬ সালটি মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলের গুছিয়ে ওঠার বছর হতে পারে। ২০২৫ সালে অ্যাপল অনেক পণ্য বাজারে ছেড়েছে। এর মধ্যে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স থেকে শুরু করে এম৫ চিপযুক্ত ম্যাকবুক প্রো ও ভিশন প্রো রয়েছে। তা সত্ত্বেও অ্যাপল এখন কিছুটা চাপে আছে। তাদের ‘আইফোন এয়ার’ বাজারে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। এম৫ ডিভাইসগুলো গত বছরের মডেলের মতোই।সবচেয়ে চমকপ্রদ ফোনগুলো এখন আসছে স্যামসাং বা শাওমির মতো কোম্পানি থেকে। অ্যাপল এখন ফোল্ডেবল ফোন এবং এআই প্রযুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে আছে। অনেক বড় মাপের নির্বাহীও প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাচ্ছেন।২০২৬ সালে হয়তো ফোল্ডেবল আইফোন বা এআই-চালিত সিরি আসবে। তবে অ্যাপল বর্তমানে নিজেকে নতুন করে সাজানোর পর্যায়ে রয়েছে।মানবসদৃশ রোবট২০২৬ সালে বাজারে আসবে আরও হিউম্যানয়েড (মানবসদৃশ) রোবট। ২০২৫ সালে আমরা টেসলার ডিনারে পপকর্ন পরিবেশনকারী ‘অপটিমাস’ বোট বা চীনা কোম্পানি অ্যাহেডফর্মের ‘অরিজিন এম১’-এর মতো রোবটের অনেক ভিডিও দেখেছি।১এক্স নামের একটি কোম্পানি ‘নিও’ নামক হিউম্যানয়েড গৃহকর্মীর প্রি-অর্ডার নিতে শুরু করেছে। টেসলা হয়তো এ বছরে অপটিমাস বিক্রি শুরু করবে। মানবদেহ রোবটের জন্য আদর্শ কাঠামো না হলেও মানুষের মতো দেখতে রোবটের প্রতি আমাদের এক অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করে।লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল এবং কম্পিউটার ভিশন ব্যবহারের ফলে রোবটগুলো এখন মানুষের নির্দেশে আরও স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিতে পারবে। সিইএস ২০২৬-এ এ ধরনের চমৎকার সব রোবট দেখা যেতে পারে।এআই সঙ্গী২০২৫ সালে অনেকের সঙ্গী হয়েছে ভার্চু৵য়াল এআই। একাকী বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য এআই সঙ্গীর ব্যবহার দেখা যাবে এ বছর। অনেকেই চ্যাটবটের ওপর আবেগপ্রবণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।২০২৫ সালে আমরা এআই-চালিত খেলনার প্রথম জোয়ার দেখেছি। ২০২৬ সালে আমরা এমন সব রোবট হয়তো দেখব, যা ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলবে, সঙ্গ দেবে এবং মানসিকভাবে শান্ত করবে। এগুলো ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে।ডিসপ্লে প্রযুক্তি২০২৫ সালের প্রায় সব নতুন ডিভাইস আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন শুধু নামমাত্র উন্নতির দিকে নজর দিচ্ছে। অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৩-এর ব্যাটারি একটু বেশি ভালো হতে পারে; কিন্তু ৯৯ শতাংশ ফিচার আল্ট্রা ২-এর মতোই।টিভি বা হেডফোনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ডিসপ্লে প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষের চোখ আর উন্নতির পার্থক্য ধরতে পারছে না।স্মার্টফোনের দামল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ, এআই শিল্প। স্যামসাং তাদের মেমোরি ড্রাইভের (র্যাম) দাম দ্বিগুণ করছে। ফলে এইচপি, ডেল বা লেনোভোর মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে। বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের যে সংকট চলছে, তাতে পকেট আরও বেশি খালি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এআই বিজ্ঞাপনএআই বিজ্ঞাপনের জয়জয়কার চারদিকে এখন। চলচ্চিত্র নির্মাণ বা বিজ্ঞাপনে এআইয়ের ব্যবহার শিল্পীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিলেও বড় কোম্পানিগুলো তাতে পাত্তা দিচ্ছে না।ম্যাকডোনাল্ডস বা কোকাকোলার মতো প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এআই বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে। ইউটিউবে এআই ভিডিও বা ‘অভিনেতা’ এখন সাধারণ দৃশ্য। গুগল ও লুমাএআই-এর মতো কোম্পানিগুলো যেভাবে উন্নতি করছে, তাতে বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় এআইয়ের ব্যবহার রোখা আর সম্ভব নয়।২০২৫ সালের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রযুক্তির বিবর্তনের গতি কেবল ত্বরান্বিতই হচ্ছে। তাই, ২০২৬ সালের জন্য যাঁরা আগে থেকে প্রস্তুতি নেবেন এবং নতুন সুযোগগুলোকে গ্রহণ করবেন, তাঁরাই আগামী দিনগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন।তথ্যসূত্র : ম্যাশেবল, রয়টার্স, এএফপি
রিভিউ সমগ্র
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
গল্প সমগ্র
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
কবিতা সমগ্র
আরও দেখুন →
আমার স্বপ্নকে কারা রাত্রিদিন এমন পাহারা দিয়ে ফেরেমনে হচ্ছে এই একগুচ্ছ স্বপ্নকে নিয়ে তারা অধিক চিন্তিতশলা-পরামর্শে ব্যস্ত, গেরিলারও চেয়ে বেশি ভীতআমার স্বপ্নকে নিয়ে তারা;মাইনেরও চেয়ে বেশি ক্ষতিকর একগুচ্ছ সোনালি স্বপ্নের ডালপালাতাই তারা সর্বদা শঙ্কিত এই বক্ষলগ্ন স্বর্ণচাঁপাগুলিকে নিয়েই।তারাও কি জানে এই স্বপ্নগুচ্ছ হয়তো একদা নকশীকাঁথার মতোদেশজুড়ে আঁকবে একটি নাম, তৃণগুল্ম ধীরে ধীরে হবে সেইস্বপ্নের আহারমেঘে মেঘে নবীন মল্লার বুনে দিয়ে আসবে গোপনেনক্ষত্রপুঞ্জের খোলা বিশাল তোরণ অনায়াসে করবে রচনা,আমার স্বপ্নকে তাই রাত্রিদিন এমন করছে কেউ তাড়ামাঝে মাঝে হঠাৎ চড়াও হয়ে করছে প্রবল আক্রমণআমার স্বপ্নকে নিয়ে মনে হয় ওরা আজ সর্বাধিক ভীত।ওরাও কি জানে এই স্বপ্নের ভিতর রাবণের মৃত্যুবরণ লুক্কায়িতআছেএই শাদামাঠা স্বপ্নের ভিতরে জ্যোতিমৃয় ভবিষ্যৎআছে মুখ গুঁজেকি রঙমহল, মিনার, গম্বুজ, পাথরের প্রাণবন্ত পাখিপ্রজ্বলিত প্রকোষ্ঠে কোথাও দাউ দাউ দরুণ আগুনএই স্বপ্নের ভিতরে কী যে রৌদ্রকরোজ্জ্বল সবুজাভ দিনআর কি জেনেছে তাও? তাই আমার স্বপ্নের পিছেলেলিয়ে দিয়েছে এতো সশস্ত্র প্রহরীবুটের আওয়াজ ঘন ঘন কানে এলে যাতে এইস্বপ্ন অন্তর্হিত হয়;কিন্তু ওরা তো জানে না এই স্বপ্নকে আমি কতোদিনশত্রু ছাউনির পাশে রেখেকতোদিন সশব্দ কামানের মুখে ফেলেকতোদিন যুদ্ধের মহড়া দিয়ে তাকে করেছি প্রস্তত এতোখানি।আমার স্বপ্ন তো আজ নিজেই সইতে পারেসব শোকাবহ ঘটনার বেগ, বিদ্যুৎ কি অগ্নির ছোবলআমার স্বপ্নের মধ্যে কখন ঢুকেছে এইবিশাল বেদনাতাই তাকে দিয়েছে ব্যঞ্জনা সেই একটি নামের স্বপ্নেরও অধিক সেই স্বপ্নভেদী নাম, স্বপ্ন ভেদ করে আমার হৃদয়ও ভেদ করে সেই মৌন মগ্ন এপিটাফ!

কতোদিন কোথাও ফোটে না ফুল, দেখি শুধুঅস্ত্রের উল্লাসদেখি মার্চপাস্ট, লেফট রাইট, কুচকাওয়াজ ;স্বর্ণচাঁপার বদলে দেখি মাথা উঁচু করে আছে হেলমেটফুলের কুঁড়ির কোনো চিহ্ন নেই, গাছের আড়ালে থেকেউঁকি দেয় চকচকে নল,যেখানে ফুটতো ঠিক জুঁই, বেলি, রঙিন গোলাপএখন সেখানে দেখি শোভা পাচ্ছে বারুদ ও বুলেট ;প্রকৃতই ফুলের দুর্ভিক্ষে আজ বিরান এদেশকোথাও সামান্য কোনো সবুজ অঞ্চল নেই, খাদ্য নেই,শুধু কংক্রিট, পাথর আর ভয়ল আগুনএখানে কারফিউ-ঘেরা রাতে নিষিদ্ধ পূর্ণিমা ;আজ গানের বদলে মুহুর্মুহু মেশিনগানের শব্দ-সারাক্ষণ বিউগল, সাইরেন আর বিকট হুইসিলবুঝি কোথাও ফুলের কোনো অস্তিত্বই নেই।ফুলের শরীর ভেদ করে জিরাফের মতো আজঅস্ত্রই বাগয়েছে গ্রীবাপাতার প্রতীক তাই ভুলে গেছি দেখে দেখে অস্ত্রের মডেল!খেলনার দোকানগুলিতে একটিও গিটার, পুতুল কিংবাফুল পাখি নেইশিশুদের জন্য শো-কেসে সাজানো শুধু অস্ত্রের সঞ্চারবাইরেবাতাস শ্বাসদুদ্ধকর, রাজপথে সারি সারি বুট,সব কিছু চেয়ে আছে অস্ত্রেরই বিশাল ডালপালা ;কোথাও ফোটে না ফূল, কোথাও শুনি না আরহৃদয়ের ভাষা,কেবল তাকিয়ে দেখি মার্চপাস্ট, কুচকাওয়াজ, লেফট রাইটএই রক্তাক্ত মাটিতে আর ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস।

হারানো স্মৃতি -এসপিএস শুভপ্রেমের স্নিগ্ধ মন,তোমাকে নিয়ে আজও ঘিরি।অনেক বেশি ভালোবেসে নিয়ে ছিলাম-তোমার পিছুটান,সব কিছু হারিয়ে আজ আমি অবসান।হৃদয়ে কাপন জাগে,কি যে ভালো লাগে!উতলা হই তোমার প্রেমের অনুরাগে।তুমি কথা দিয়েছিলে আমাকে পেতে,এখন কি হলো সেই কথায় তাতে?দিতে পারবে কি?আমার হারানো স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে!বেঁচে থেকেও মরে গেছি,আসবে কি ফিরে?নেশায় নেশায় দিনগুলো যাচ্ছে পেরিয়ে।
অপরেটর নিউজ
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
বিশেষ আয়োজন
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
বিনোদন জগৎ
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
গানের কথা
আরও দেখুন →
অথই জলে ডুবেই যদি মানিক পাওয়া যায়তাহলে ডুবিয়ে দিয়ে এই মনটাকেকাটিয়ে দিতাম আমি কিছুটা সময়একলা বসেই ওগো সাগরবেলায় ॥পরশমণিরে বেঁধে বুকেরই তারেবলতাম, পেয়েছি আমি খুঁজেছি যারেমুঠোয় নিতাম তুলে পরম পাওয়াযা কিছু আমায় শুধু কাঁদায়, হাসায় ॥মানিক সে তো মন, মিথ্যে সবই আরতারে ধরা যায় না, তারে ছোঁয়া যায় নাসে তো শুধু কল্পনার ॥ইচ্ছার ঝিনুকে আহা মুক্তো জ্বলেহৃদয় যদি সোনা হয় সহজে মেলেসোনার সোহাগে হিয়া হয় সোহাগীভোলে না তখন মন মৃগের মায়ায় ॥কথা : গাজী মাজহারুল আনোয়ার,সুর : সত্য সাহা,কণ্ঠ : বশীর আহমদ,অভিনয় : মাসুম,চিত্রপরিচালক : সুভাষ দত্তআয়না ও অবশিষ্ট (৬ মে ১৯৬৭)
অন্যান্য ও মজা
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
বাংলা কৌতুক
আরও দেখুন →
বল্টু তার বন্ধু মন্টকে রাত২.৪৫একলকরল।টিং টিং টিং টিং,,,মন্টু:- (ঘুম ভেঙ্গে) হেলো!!বল্টু: (কাঁদতে কাঁদতে) আমারসর্বনাসহয়ে গেল দোস্ত।মন্টু:- (চমকে গয়ে) কি! কিহয়েছে???বল্টু:-আমার সব শেষ।মন্টু:- আরে কি হইসে বলবিতো,বল্টু:- কথাটা সুইননা তুই কিছুমনেকরবিনা তো??মন্টু:- তুই আমার এতো ভালঘুমভেঙ্গে কি মসকারি করতাসস??কি বলবি তারাতারি বল।বল্টু:- আমার প্রিয় ১৫০ টাকাদামেরঘড়িটা নষ্ট হয়ে গেসে।তাই এখনটাইম জানার জন্যতোরে কল দিসি,এখন কইটাবাজে??

বাসা থেকে বের হতেই পল্টুরচোখে পড়ল রাস্তার ওপারের রেস্তোরাঁয় গরম গরম জিলাপি বানানো হচ্ছে। পল্টুর স্ত্রী তা দেখে বায়না ধরল। পল্টু তাকে নিয়ে রেস্তোরাঁর সামনে গেল—পল্টু: আচ্ছা ভাই, আপনি কত বছর ধরে জিলাপি বানান?জিলাপিওয়ালা: আমি তো দীর্ঘ ১২ বছর ধরে জিলাপি বানাই।পল্টু: এতদিন ধরে জিলাপি বানাচ্ছেন! কিন্তু আজ পর্যন্ত জিলাপিটা সোজা করে বানানো শিখলেন না।

পিন্টু একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় দেখা হলো সেন্টুর সাথে।সেন্টু : ব্যাগের ভেতর কী আছে রে?পিন্টু : পেয়ারা।সেন্টু : একটা দে না ভাই।পিন্টু : আহা! কয়টা আছে বলতে পারলে তিনটাই দিয়ে দেবো।
জানা ও অজানা
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
পড়াশোনার খবর
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
চাকুরির বিজ্ঞপ্তি
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
আরও দেখুন →এই ক্যাটেগরিতে কোনো পোস্ট নেই।
